আমরা এক কাফেলা -১৪৪০-৪১ হি. সনের ফারেগীন

আমরা এক কাফেলা

——————১৪৪০-৪১ হি. সনের ফারেগীন————–

পৃথিবীর সকল যুগের সকল দেশে আমরা তালিবুল ইলম, আমারা অভিন্ন পরিবার। আমাদের অতীত,বর্তমান, ভবিষ্যৎ অভিন্ন আমাদের মাকসাদে হায়াত অভিন্ন, আমরা তালিবুল ইলম; আমরা এক কাফেলা। যার শুরু হয়েছিল মসজিদে নববীর সুফফা প্রাঙ্গণ থেকে স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তত্ত্বাবধানে। সাহাবা, তাবেয়ীন,তাবয়ে তাবেয়ীন,আইম্মায়ে মুজতাহিদীন ও আকাবিরে দ্বীন যুগ পরম্পরায় সবাই ছিলেন এ মহান কাফেলার যাত্রী। এভাবে বহু শতাব্দীর পথ পরিক্রমার শেষে আজ আমরা সেই নূরানী কাফেলার সৌভাগ্যবান যাত্রী। প্রজন্ম পরম্পরায় এগিয়ে যাবে এই কাফেলা এবং শামিল হবে ইমাম মাহদীর মোবারক জামাতে কিন্তু আমরা আজ আত্মবিস্মৃত, আত্মপরিচয় হারিয়ে লাঞ্ছিত অপদস্ত।

 

চৌদ্দশ বছরের আমরা এক কাফেলা
ইলমের ঈমানের আমরা এক কাফেলা
আমাদের পরিচয় শোনো,
আমরা আলোর ইশারা, নূরের ফোয়ারা
মহাকালের অন্ধকারে রওশন সেতারা
আমাদের পরিচয় শোনো।

 

আমরা সত্যের অভিসারী, উম্মাহর অতন্দ্র প্রহরী,
যুগে যুগে শত দুর্যোগে আমরা পথের দিশারী
আমাদের পরিচয় শোনো।
শোকর আল্লাহর গর্ব নয় কোন।
ইলমের তালিব মোরা, নবীর ওয়ারিশ মোরা
জীবন মোদের ধন্য ;
আমরা অন্য, আমরা ধন্য,আমরা অনন্য।
আমরা আল্লাহর জন্য আল্লাহ আমাদের জন্য
জীবন মোদের ধন্য।

 

হেরার অভিযাত্রী আমরা সুফফার অনুসারী,
পাথেয় কলম- কালি, নির্জন রাতের আহাজারি।
ইলমে নবী আমলে নবী আমাদের সাধনা,
বুকে ইশকে নবী মুখে ওয়া -বিহি হাদ্দাসানা।
ইবনে আব্বাস, ইবনে মাসউদ,আবু হুরাইরা
নবী পরশে ধন্য যারা, আমাদের পরিচয় তারা
নেই কোনো পরিচয় অন্য।

 

মাদানী গুলশানের আমরা পুষ্প, আমরা সৌরভ
সত্যের ডঙ্কা,বাতিলের শঙ্কা,ঈমানের গৌরব।
জীর্ণ-শীর্ণ,রিক্ত-নিঃস্ব তবুও আমরা ধনী,
ফকিরীর মাঝে আমিরীর শান শুধু আমরা জানি।
আতা, সালিম, রাবিয়া,ছওরী, যুহরী, যুরারা
সাহাবা পরশে ধন্য যারা, আমাদের পরিচয় তারা,
নেই কোনো পরিচয় অন্য।

 

আমরা জানি তাইমিয়ার কলম-তরবারি যুদ্ধখানি
বালাকোট, শামিলি, শাহ -শহীদ গাংগুহীর কোরবানি,
আমরা জানি রেশমি রুমাল কাহিনী মাল্টার জিন্দেগানি
কালো কালি আর লাল খুনে মাখামাখি শুধু আমরা জানি।
ইলমের রূহবান, জিহাদের ফুরসান এই যে ধারা
আমাদের গর্ব তারা, আমাদের পরিচয় তারা
নেই কোনো পরিচয় অন্য।

 

সিলসিলা যুক্ত সাথে আল্লাহর রাসুলুল্লাহর
কোন সরকার করিবে স্বীকার বল কি দরকার!
জুনায়েদ, জিলানী, আলফেসানী, শাহ দেহলবী,
মুহাজেরে মক্কী, নানুতুবী, কান্ধলবী, থানবী
সময়ের সাধনা যারা, যুগ জিজ্ঞাসার জবাব তারা,
আমাদের গর্ব তারা আমাদের পরিচয় তারা;
নেই কোনো পরিচয় অন্য।

 

নবী হাতে সেক্ষণ ৭০ জন পিয়েছেন দুধের পেয়ালা
আমরা তার ভাগীদার, আমাদের কাফেলা সেই কাফেলা।
যুগের দুর্যোগে আজ যারা রাহবার আলী নদবীর মত
ইলমের গৌরব যত, এখানেই বাংলায় চিরশায়িত।
আল্লাহর রহমতে মাহাদির ঝান্ডায় লড়বে যারা
আমাদের গর্ব তারা আমাদের পরিচয় তারা
নেই কোনো পরিচয় অন্য।

 

কিন্তু আজ কোথা রাখি লাজ ডুবিলো কি ভাগ্য তারা
একদিন আমরা গড়েছি কুরতুবা, খোরাসান, বুখারা।
আমরা জ্বেলেছি জ্ঞান -আলো, কত জাতি উজ্জ্বল হলো
শিক্ষক কেন শিষ্য হল এ ঘর ঘর কেনো আঁধার বলো?
ভুলেছি অতীত, কেটেছি শিকড়, আছে কি ভবিষ্যত
কাফেলা হিজাজের তুর্কিস্তানের ধরেছে ভ্রান্ত পথ।
সালাফের পথে মুক্তি খালাফের ইমাম মালিকের বাণী,
রসমে আজানে কোথা আজ রুহে বেলালের সঞ্জীবনী।
তাই এসো ভাই এসো শপথ করি আবার নিশি জাগি,
আবার ধরে সুফফার জিন্দেগি এলমের তরে সর্বত্যাগী।
সেযুগের মুসলিম বুখারী এযুগের মাদানী কাশ্মীরি,
এসো ভাই তাদের পথ চলি, তাদের মত জীবন গড়ি।
অতীতের নমুনা একবার যদি ভাই জাগাতে পারি,
দেখিবে দুনিয়া করিবে চুম্বন আমাদের পায়ে পড়ি।

 

(সংগৃহীত: আদিব হুজুরের বই থেকে)

শেয়ার করুন
error: Content is protected !!