শরয়ী মানদণ্ডে মাজহাব ও লা-মাজহাবী

সংকলকের দু’টি কথা

بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله وكفى وسلام على محمد المصطفى وعلى آله
واصحابه المجتبى وعلى من تبعهم باحسان الى يوم العقبى

ইসলামী শরীয়তের মূল উৎস হচ্ছে কুরআন ও সুন্নাহ। আর কুরআন ও সুন্নাহর কিছু কিছু বিধানে আছে জটিলতা। কারণ কুরআন সুন্নায় বর্ণিত বিধি-বিধান রয়েছে দু’ধরনের-
এক. স্স্পুষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অর্থবোধক যা সাধারণ শিক্ষিতরাও বুঝতে সক্ষম।
দুই. অস্পষ্ট ও বাহ্যিক দিক থেকে বিরোধপূর্ণ।
এছাড়া সমসাময়িক আরো অনেক জটিল বিষয় আছে, যেগুলোর সমাধান কুরআন ও সুন্নাহতে যেমন স্পষ্টভাবে নেই, তেমনি অস্পষ্টভাবেও পাওয়া যায় না। তবে অতি সূক্ষ্ম ইঙ্গিতে কিংবা তদনুরূপ কোন বিষয়ের অধীনে দেয়া হয়েছে। যেমন মোবাইলে বিবাহ, ইন্টারনেটের মাধ্যমে আধুনিক পন্থায় ব্যবসা, রোযা অবস্থায় ইনজেকশন গ্রহণ, বিমানে নামায আদায়, টেস্ট টিউবের মাধ্যমে সন্তান লাভ ইত্যাদি। এদিকে অসংখ্য কুরআনের আয়াত ও হাদীস দ্বারা জানা যায় যে, ইসলাম ধর্ম সর্বশেষ ও সর্বজনীন ধর্ম। মানব জাতির সব সমস্যার সমাধান দিয়েই ইসলাম পরিপূর্ণ। আর এ সকল সমস্যার সমাধানের আইন ও মুলনীতির গ্রন্থ হচ্ছে কুরআন ও সুন্নাহ। আর এ সব অস্পষ্ট বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে কুরআন ও হাদীসের আলোকে উপরোক্ত জটিলতার বিচার বিশ্লেষণ করে যুগীয় সব সমস্যার সমাধান, ইজতিহাদ ও কিয়াসের মাধ্যমে সঠিকভাবে উপস্থাপন করার কঠিন দায়িত্ব হচ্ছে একমাত্র মুজতাহিদ আলেমগণের। তারা সাহাবা হোক বা তাবেয়ী কিংবা পরবর্তি যুগের মনীষী। এ দায়িত্ব পালন করেছেন প্রথমে স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (যদি কোন বিষয়ে ওহী না আসে বা আসতে বিলম্ব হতো)। অতপর রাসূলের সামনেই ইজতিহাদ করেছেন সাহাবীগণের অনেকেই। আর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তাদের গবেষণা ও ইজতিহাদের উপর স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই। অতপর ইজতিহাদের দায়িত্ব পালন করেছেন তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীনের বিজ্ঞ আলেম ও মুজতাহিদগণ।
তবে সে সকল সাহাবা ও তাবেয়ীন মুজতাহিদগণের কোন মাযহাবের সুবিন্যস্ত সংকলন গ্রন্থাকারে সংরক্ষিত হয়নি; বরং কোনো একজন মুজতাহিদ সাহাবী মানব জাতির জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সকল বিষয়ে ইজতিহাদ করে মানবজাতির জীবন যাপনে সহজ কোন পথ ও পন্থা ও আবিষ্কার করে যাননি। হ্যাঁ, তাদেরই শত শত বিক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত ও মাযহাবকে কুরআন ও সুন্নাহর নীতিমালা অনুসরণে স্ব-স্ব ইজতিহাদের মাধ্যমে সুবিন্যস্ত করেছেন- চার মাযহাবের চার বিজ্ঞ মনীষী ছাড়াও আরো অনেকে।

মাযহাবের অর্থ
এতে প্রমাণিত হলো যে, কুরআন সুন্নাহর বিধি-বিধানের সুবিন্যস্ত সংকলনই হচ্ছে- ফিকহ। আর ফিকহের প্রত্যেকটি সংকলন সংরক্ষিত ছিলো। যুগের অতিক্রান্তে তাদের অনেকের সংকলন বিলুপ্ত হয়ে বর্তমানে শুধু চারটি সংকলনই স্থায়িত্বতা ও গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে। সেগুলো হচ্ছে-
১. ফিকহে হানাফী বা হানাফী মাযহাব [৮০-১৫০ হি.]
২. ফিকহে মালিকী বা মালেকী মাযহাব [৯৪-১৯৭ হি.]
৩. ফিকহে শাফেয়ী বা শাফেয়ী মাযহাব [১৫০-২০৪ হি.]
৪. ফিকহে হাম্বলী বা হাম্বলী মাযহাব [১৬৪-২৪১ হি.]

সুতরাং উপরোক্ত আলোচনায় বুঝা গেল যে, মাযহাব শব্দটির অর্থ ফিকহের মাযহাব বা ফিকহের বিশেষ সংকলন। সবগুলো মাযহাবই দ্বীন ইসলামের অধীন এবং শরীয়তের উপর চলারই একেকটি পথ। এখানে মাযহাব অর্থ দ্বীন বা আকীদা বিষয়ে মতবিরোধকারী কোনো ফিরকা ও দল নয়; বরং ফিকহী মাযহাবের সকল ইমামগণই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারী এবং তাদের অনুসারীরা ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মত ও পথেরই অনুগামী।

মাযহাব মানার অর্থ ও হুকুম

কুরআন হাদীসের যে সব ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা রয়েছে, চাই সেটা সংক্ষিপ্ততার কারণে হোক বা একাধিক অর্থবোধক হওয়ার কারণে কিংবা দলীলের পারস্পরিক বিরোধপূর্ণতার কারণেই হোক। এসব জটিল বিষয়াদির সঠিক বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বের করে তার উপর আমল করার পন্থার নামই হচ্ছে মাযহাব। আরেক ভাষায় এসব জটিলতা থেকে মুক্তিলাভের পথ ও পন্থা হচ্ছে মাত্র দু’টিÑ
১. স্বীয় জ্ঞান, ইলম ও বিবেকবুদ্ধির বিবেচনার উপর নির্ভর করা।
২. নিজেরা নিজেদের জ্ঞান-বিবেক অনুযায়ী সিদ্ধান্ত না নিয়ে এসব ব্যাপারে কুরআন সুন্নাহর পূর্ববর্তী বিজ্ঞ মনীষীদের গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের অনুকরণ করে সে মোতাবেক আমল করা।
এ দু’টি পথের মধ্যে দ্বিতীয়টি যে সর্বাধিক নিরাপদ ও সহজ এটা কাউকে যুক্তি দিয়ে বুঝানোর প্রয়োজন নেই। এই পন্থাদ্বয়ের মধ্যে নিজেদের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর না করে, পূর্ববর্র্তী মুজতাহিদ ইমামগণের যে কোন একজনের সিদ্ধান্ত মেনে সে মতে আমল করার নামই হচ্ছে তাকলীদ বা মাযহাব মানা।

সারকথা: কুরআন হাদীসে বহু আয়াত ও নস দ্বারা প্রমাণ মিলে যে, যেসব বিষয়ে কুরআন হাদীসে জটিলতা রয়েছে, ওইসব বিষয়ে কুরআন হাদীসের আলোকে ইজতিহাদ ও কিয়াসের মাধ্যমে উপস্থিত সমস্যার সমাধান দেয়া বিজ্ঞ আলেম ও মুজতাহিদগণের কর্তব্য। আর যারা সাধারণ মুসলমান কুরআন হাদীস জানে না। অথবা আরবী ভাষা জানে না, কিংবা সনদপ্রাপ্ত আলেম তবে জটিল বিষয়গুলোর সমাধান দিতে অক্ষম, তাদের নিজস্ব বিবেক-বুদ্ধির উপর নির্ভর না করে কোনো একজন মুজতাহিদ ইমামের মাযহাব মেনে আমল করা জরুরী। অন্যথায় কুরআন হাদীস মেনে চলার কোন উপায় নেই।
আল্লাহ তায়াল ইরশাদ করেন-

فَاسْأَلُواْ أَهْل َالذِّكْر ِإِن كُنتُمْ لاَ تَعْلَمُونَ
অর্থাৎ তোমরা যারা জান না জ্ঞানী ব্যক্তিদের থেকে জিজ্ঞাসা করে নাও।
মাযহাবের ইমামগণ শরীয়তের বিধানদাতা নয়;
বরং ব্যাখ্যাদাতা মাত্র

কোন ইমামের মাযহাব মানার অর্থ এ নয় যে, সে ইমাম শরীয়তের বিধানদাতা বা শরীয়তপ্রণেতা। কারণ এ অর্থে অনুকরণ হবে একমাত্র আল্লাহ ও তার রাসূলের; বরং মাযহাবের ইমামগণ হচ্ছেন, শরীয়তের ব্যাখ্যা দানকারী ও বিশ্লেষক বা আইনজ্ঞ। আর মাযহাব মানার অর্থ হচ্ছে- ইমামে মাযহাবের প্রদত্ত ব্যাখ্যা গ্রহণের মাধ্যমে মূলত কুরআন সুন্নাহরই বিধান পালন ও গ্রহণ করা। এ কারণেই ইমাম ইবনে নুজাইম রহ. তাকলীদের সংজ্ঞা এভাবে করেছেন-

التقليد: العمل بقول من ليس قوله احدى الحجج بلا حجة منها

অর্থাৎ তাকলীদ হচ্ছে, দলীল প্রমাণ চাওয়া ব্যতিরেকে এমন কোনো ব্যক্তির কথার উপর আমল করা, যার কথা শরীয়তের উৎস নয়।
সুতরাং প্রমাণ হলো যে, ফিকহ ও মাযহাব মূলত কুরআন হাদীসের বিশ্লেষণ এবং কুরআন হাদীসে বর্ণিত আহকাম ও বিধি-বিধানের সুবিন্যস্ত ও সংকলিতরূপ। আর ফকীহ ও মাযহাবের ইমামগণ হচ্ছেন, কুরআন হাদীসের বিশ্লেষক। এ কারণে কুরআন হাদীস মানতে হলে, ফিকহ ও মাযহাব ছাড়া বিকল্প নেই। ফকীহ ও ইমামদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী হাদীস মানার কর্মধারা সাহাবা ও তাবেয়ীদের যুগ থেকে নিরবিচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতার সাথে চলে আসছে। এটাই (খাইরুল কুরুন) ইসলামের স্বর্ণযুগের মনীষীদের আদর্শ এবং সকল যুগেই মুসলিম জাতি এ পদ্ধতিতেই হাদীস অনুসরণ করে ধন্য হয়েছেন। এটাই হাদীস অনুকরণের সুন্নাহ নির্দেশিত পথ; কিন্তু এই সুন্নাহর নির্দেশিত হাদীস মানার পথকে উপেক্ষা করে, উপরন্তু মাযহাব, ফিকহ, কিয়াস ও ইজতিহাদকে শিরক বা হারাম বলে হাদীস অনুকরণের দাবী নিঃসন্দেহে একটি নব্য আবষ্কিৃত বিদআত। মাযহাবের অনুসরণে গোটা মুসলিম উম্মাহ বার শ’ বছর ধরে কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ করে আসছেন। ইজতিহাদ ও মাযহাব অমান্য করার ইতিহাস সাহাবীদের মধ্যেও ছিলো না। বাদ পড়েনি মাযহাব অনুকরণ থেকে ইসলামী ইতিহাসে হাদীস, তাফসীরের অসংখ্য গ্রন্থকারও।

মাযহাব বিরোধীদের উদ্ভট দাবী

মুসলিম উম্মাহর এই সর্বসম্মত কর্মধারার বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম দলবদ্ধভাবে আন্দোলনের আওয়াজ তোলেন বার শ’ বছর পর একদল আহলে হাদীস নামধারী গোষ্ঠী। তাও আরবে নয়; বরং এই উপমহাদেশে এবং ইংরেজেদের শাসনামলে। এরা তাকলীদ ও মাযহাব মানাকে শিরক বা হারাম বলে ফতোয়া দিচ্ছে। তাদের মূল দাবী হচ্ছে, মাযহাবীগণ তাদের মাযহাবের ইমামদেরকে নিষ্পাপ বা ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে মনে করেন। তারা না-কি ইমামগণকে রাসূলের স্থানে পৌঁছে দিচ্ছেন? তাদের দলীলবিহীন কথাকে শরীয়তবিরোধী হলেও মান্য করাকে জরুরী মনে করছে। তারা বলে- মাযহাব মানার অর্থ হচ্ছে, অন্ধ অনুসরণ যা কুফরী বা শিরকী মতবাদ। শরীয়তের দলীল একমাত্র কুরআন-হাদীস। ইজমা-কিয়াস শরীয়তের দলীল নয়। মাযহাব মানা কুরআন হাদীস বিরোধী। মাযহাব পরবর্তী যুগে আবূ হানীফাসহ অন্যান্য ইমামের আবিষ্কার। মাযহাব চারটি কেন? সব মাযহাব সঠিক হয় কি করে? এ জাতীয় অসংখ্য উদ্ভট উক্তি সমাজে ছুড়ে দিয়ে মাযহাবের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ এসব উক্তির সাথে মাযহাব মানার কোন যোগসূত্রই নেই। কারণ, মাযহাব যারা মানেন তারা রাসূল ছাড়া অন্য কাউকে নিস্পাপ মনে করেন না। তারা ইমামগণকে বিশ্লেষক হিসেবে মান্য করেন এবং তাদেরকে মূলত শরীয়তের খাদেম মনে করেন, শরীয়তপ্রণেতা নন। আল্লাহর বিধি-নিষেধ কুরআন-সুন্নাহতে যা দেয়া আছে ইমামগণের ব্যাখ্যামতে তা মানার জন্যই মাযহাব মানেন। তদুপরি মাযহাব মান্য করা শরীয়তেরই নির্দেশ, তাই তা মানেন। ইজমা, কিয়াস, কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত ও শরীয়তের দলীল। মাযহাব আবূ হানীফা রহ. এর আবিষ্কার নয়; বরং সাহাবীদের উদ্ভাবন; যা রাসূলেরই সমর্থিত।
আমি বক্ষ্যমাণ এ প্রবন্ধে এসব বিষয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে দলীলভিত্তিক আলোচনা করার চেষ্ট করেছি। এ সব বিষয়গুলোকে সাতটি অধ্যায়ে ভাগ করে বিস্তারিত আলোচনা উপস্থাপন করতে গিয়ে বইটির কলেবর বড় হয়ে গেছে। শেষ অধ্যায়ে মাযহাব মানার ব্যাপারে লা-মাযহাবী ভাইদের কিছু উদ্ভট ও অসার সংশয় এবং তার নিরসন তুলে ধরেছি। অবশেষে বর্তমান নামধারী তথা কথিত সালাফী আর আরবের প্রকৃত সালাফীদের পরিচিতি ও ব্যবধান আলোকপাত করেছি। এ ছাড়াও ভুল বুঝাবুঝির নিরসনকল্পে আহলে আরবের প্রকৃত সালাফীদের অবস্থান সম্পর্কে আরবি ভাষায় সংক্ষিপ্তাকারে কয়েকটি কথা ব্যক্ত করার প্রয়াস চালিয়েছি।
আমার প্রবল ধারণা প্রবন্ধটি আহলে ইলম, ছাত্র, জনতা নির্বিশেষে সর্বস্তরের পাঠক-পাঠিকার জন্য মাযহাব নিয়ে ধু¤্রজাল ছিন্ন করে সব বিতর্কের অবসানকল্পে বড় সহায়ক হবে। আল্লাহ তা‘য়ালা বইটিকে কবুল করুন। সব দ্বীনি কাজ একমাত্র তার সন্তুষ্টি অর্জনে করার তাওফীক দান করুন।

পরিশেষে- অধমের দরস, মাহফিল, সেমিনার ইত্যাদির ব্যস্ততার কারণে অতি অল্প সময়ের মধ্যে কাজটা এ পর্যন্ত পৌঁছেছে। অতি তাড়াহুড়া এবং অযোগ্যতার কারণে ভুল-ত্রুটি হওয়াই স্বাভাবিক। যদি ভুল-ত্রুটি কোন ভাইয়ের দৃষ্টিগোচর হয়, তাহলে ইসলাহের নিয়তে অবহিত করলে চির কৃতজ্ঞ হবো।

এই প্রবন্ধটি প্রকাশ পর্যন্ত আমার সহকর্মীরা আমাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। বিশেষ করে মারকাযের মুফতি ও মুহাদ্দিস, মুফতি শরীফ মালিক এর অবদান ভুলার মত নয়। তার অবিরাম মেহনতে বইটি প্রকাশের পথ সুগম করেছে। আমি এদের সকলের জন্য দুআ করি। আল্লাহ তা‘য়ালা সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং আল্লাহ এই বইয়ের সকল পাঠক-পাঠিকাকে মাযহাব সম্পর্কে জ্ঞাত হয়ে তার উপর আমল করার তাওফীক দান করুন।
আমীন ॥

বিনীত
মিযানুর রহমান সাঈদ

প্রাপ্তিস্থান: মাকতাবাতুল আযহার ও শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা

যোগাযোগ: 0186799000

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *