শরীয়তের আলোকে বুখারী খতম পড়া ও তার বিনিময়ে টাকা নেয়া বৈধ কি-না?

ফতোয়া নং:১০/১৯৭১

বরাবর,
মাননীয় প্রধান মুফতি সাহেব দামাত বারাকাতুহুম

বিষয় :- খতম সংক্রান্ত মাসআলা

প্রশ্ন :- বর্তমানে বহুল প্রচলিত খতমে বোখারী বিভিন্ন মাদ্রাসাও প্রতিষ্ঠানে দেখা যায়। যখন কোন ব্যক্তি মুসিবতে পড়ে যায়, অথবা ব্যবসার উন্নতি বা পারিবারিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রতি মাসে অথবা সাপ্তাহে বুখারী খতমের আয়োজন করে দোয়ার ব্যবস্থা করেন। এবং এর জন্য হাদিয়া তোহফাও গ্রহণ করা হয়।
আর অনেক ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই যে, পুরো কিতাব (বুখারী) খতম হয় না। বরং নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কিছু পৃষ্ঠা তেলাওয়াত হয়।
এখন আমার জানার বিষয় হল, শরীয়তের আলোকে এভাবে বুখারী খতম করার কোনো বৈধতা আছে কিনা? এবং প্রচলিত নিয়মে পূর্ণ খতমের নামে অল্প কিছু পৃষ্টা পড়ে হাদিয়া গ্রহণ করা বৈধ কিনা? যদি বৈধ না হয় তাহলে যেই টাকা গ্রহণ করা হয়েছে তার হুকুম কি? কোরআন হাদিসের দলিল প্রমান সহকারে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

নিবেদক
মোঃ মুস্তাকিম
গোপালপুর, সিরাজগঞ্জ

الجواب باسم ملهم الصدق والصواب

শরীয়তে দোয়া কবুলের লক্ষ্যে যে কোন নেক আমল কে উসিলা বানানো বৈধ। ইসলামের সোনালী যুগ থেকে অদ্যবধি এর বহু নজির রয়েছে। আর যেই কোনো বৈধ তদবির করিয়ে বিনিময় আদান-প্রদান ও বৈধ। আর শ্রমিকের শ্রম এবং পারিশ্রমিক চুক্তির সময় নির্দিষ্ট করে নেয়া শর্ত। অন্যথায় চুক্তি ফাসেদ বলে গণ্য হয়। এবং নির্দিষ্ট বিনিময়ের চুক্তিতে যেই পরিমাণ শ্রমের কামনা করা হয় তাতে ত্রুটি করা ধোকা এবং প্রতারণার শামিল। যা কিছুতেই বৈধ নয়। তাই ফাসিদ চুক্তিতে এবং ধোকার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ ভক্ষণ মোটেই বৈধ নয়। এমন অর্থ যথাসম্ভব গ্রহণ না করা, আর গ্রহণ পরবর্তীতে মূল মালিককে পৌঁছানো আবশ্যক।

সুতরাং দুনিয়াবী বিভিন্ন উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে উসিলা স্বরুপ ‘বুখারী শরীফ’ খতম করে দোয়া করা বৈধ একটি আমল। চুক্তিভিত্তিক তার পারিশ্রমিক নেয়াও বৈধ। তবে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে খতম করার চুক্তি করত: খতম পূর্ণ না করে বিনিময় নেয়া বৈধ হবে না। এক্ষেত্রে যে ত্রুটি করবে তার উপরই সে দায় বর্তাবে। মূল চুক্তিতে কোন সমস্যা হবে না। অতএব, তার কর্তব্য হবে হয়তো খতম পূর্ণ করে দেবে, না হয় অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিবে।

অবশ্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের পূর্ব চুক্তি ছাড়াই খতম করে পরবর্তীতে অনির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গ্রহণ শরীয়ার আলোকে বৈধ অনুমিত হয় না। তবে (উরফ) সামাজিক প্রচলনের ভিত্তিতে টাকা হস্তগত হওয়ার পর দ্বিপাক্ষিক সন্তুষ্টির বিবেচনায় তা ভক্ষণ করার অবকাশ দেয়া যেতে পারে।

الأدلة الشرعية

[الهداية في شرح بداية المبتدي: 2/293 (تھانوی)

وهو قوله عليه الصلاة والسلام: “أعطوا الأجير أجره قبل أن يجف عرقه” وقوله عليه الصلاة والسلام: “من استأجر أجيرا فليعلمه أجره” وتنعقد ساعة فساعة على حسب حدوث المنفعة، والدار أقيمت مقام المنفعة في حق إضافة العقد إليها ليرتبط الإيجاب بالقبول، ثم عمله يظهر في حق المنفعة ملكا واستحقاقا حال وجود المنفعة. “ولا تصح حتى تكون المنافع معلومة، والأجرة معلومة” لما روينا، ولأن الجهالة في المعقود عليه وبدله تفضي إلى المنازعة كجهالة الثمن والمثمن في البيع “وما جاز أن يكون ثمنا في البيع الخ

بذل المجهود:- ١/٣٥٧ (مركز الشيخ ابو الحسن)

فان قيل صرح الفقهاء بان ما اكتسب مالا بغير حقه، فاما ان يكون كسبه بعقد فاسد كالبيوع الفاسدة والاستئجارة على المعاصي، والطاعات، او بغير عقد كالسر قة، والغصب ،والخيانة، والغلول، ففي جميع الاحوال المال الحاصل له حرام عليه، ولكن ان اخذه من غير عقد ولم يملكه يجب عليه ان يرده على مالكه ان وجد المالك، والا ففي جميع الصور يجب عليه ان يتصدق بمثل تلك الاموال على الفقراء.

فتاوی عثمانی : ١/279 (معارف القران)

 وسیلہ اختیار کر کے دعا کرنا کیسا ہے ؟

الجواب :-  بے شک اللہ تعالی سے بلاواسطہ دعا مانگنا بھی جائز ہے،  لیکن اگر کوئی شخص اس طرح توسل کر کےکہ یا اللہ! آپ کا فلاں بندہ آپ کا مقبول بندہ ہے مجھے اس سے محبت ہے اور اس محبت کی بناء پر میں اس کا وسیلہ پیش کر کے آپ سے فلاں چیز مانگتا ہوں, تو اس میں بھی شرعی قباحت نہیں ہے بلکہ اس کے جواز پر قرآن و سنت سے دلائل موجود ہیں.

والله أعلم بالصواب

كتبه
محبوب ثاني نواخالي 
المتمرن بدار الإفتاء والإرشاد المركزية
بمركز الشيخ زكريا للبحوث الإسلامية ، داكا
5/5/1442هـــ
শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *