লিল্লাহফান্ডের টাকা মাদ্রাসার উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা যাবে কি-না?

ফতোয়া নং: ১০/১৯৮৪

বরাবর,
কেন্দ্রীয় দারুল ইফতা,
শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, ঢাকা, বাংলাদেশ।

বিষয়: যাকাত ও ওয়াজিব সাদাকাহ

মুহতারাম মুফতি সাহেব! সাতক্ষীরা সদরে একটি মাদ্রাসা আছে মাদ্রাসাতুস্সুফ্ফাহ নামে ঐ মাদ্রাসায় অনেক গরীব ছাত্র পড়াশোনা করে তাদের জন্য লিল্লাহফান্ড (ওয়াজিব সাদাকাতের ফান্ড) থেকে খাওয়া পড়ার ব্যবস্থা করা হয়, আর মাদ্রাসার লিল্লাহফান্ডে অনেক টাকা আছে কিন্তু উন্নয়ন ফান্ডে টাকা নেই, আর ঐ সমস্ত ছাত্রদের থাকার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ও সবধরণের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা নেই। আর বর্তমানে মাদ্রাসাটা এক কুচক্রী ও ষড়যন্ত্রকারী মহলের দখলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা আছে, আর মাদ্রাসা তাদের দখলে চলে গেলে তারা মাদ্রাসার সমস্ত সম্পদ নাহক তাসার্রুফ করবে। এবং জনগণের সম্পদ নষ্ট করে ফেলবে।
মুফতি সাহেবের কাছে জানার বিষয় হল,
(১) এমন কোন সুরত বলে দেবেন, যে সুরতে লিল্লাহফান্ডের টাকা মাদ্রাসার উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা যায়, বিশেষ করে মাদ্রাসার ভবনের খুব প্রয়োজন।
(২)-একটি সুরত সম্পর্কে শরীয়তের বিধান জানাবেনঃ মাদ্রাসার কতৃপক্ষ কোন এক ছাত্রকে বলল-তুমি ঋণ করে ৫ লক্ষ টাকা মাদ্রাসায় দান করো, ঋণ পরিশোধে আমরা তোমাকে সাহায্য করবো অতঃপর উক্ত টাকা মাদ্রাসায় দান করার পরে লিল্লাহফান্ড থেকে তাকে পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়।
(৩) আর এমনইভাবে লিল্লাহফান্ডের টাকা মাদ্রাসার কোন কোন কাজে কি কি সুরতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
উপরে বর্ণিত তিনটি প্রশ্নের জওয়াব দলিলসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

নিবেদক
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ
পক্ষে
উসামা আল হাম্মাদ।

الجواب باسم ملهم الصدق والصواب

ইসলামি শরিয়ায় যাকাতের হকদারকে ওয়াজিব সদকাহসমূহের অর্থের পূর্ণ মালিক বানিয়ে দেওয়া ওয়াজিব সদকাহ আদায় সহিহ হওয়ার পূর্বশর্ত। অন্যথায় ওয়াজিব সদকাহ আদায় সহিহ হয় না। আর বিশেষ কোনো প্রয়োজনে, ভালো কোন উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে, অন্য কোন উপায় না পেয়ে, একান্ত বাধ্য হয়ে হিলার পন্থা অবলম্বন করার অবকাশ রয়েছে।

সুতরাং প্রশ্নোক্ত সুরতে মাদ্রাসাতুস্ সুফ্ফায় যেহেতু ছাত্রদের থাকার জায়গা ও পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাব রয়েছে, এবং উনয়নের ফান্ডের মাধ্যমে প্রয়োজন পূরণ করাও যাচ্ছে না, পাশাপাশি রয়েছে কুচক্রী মহলের অনৈতিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা, তাই এখানে একান্ত বাধ্য হয়ে প্রয়োজন মাফিক হিলার পন্থা অবলম্বন করার সুযোগ থাকবে।
(এক) ভবন যেহেতু ছাত্রদের স্বার্থেই করা হচ্ছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় খাতেই ব্যয় হচ্ছে, তাই তাদেরকে লিল্লাহ ফান্ডের মালিক বানিয়ে দিয়ে উক্ত খাতে দান করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে, যাতে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মন থেকে উন্নয়ন ফান্ডে দান করে।
(দুই) উল্লেখিত হিলার পদ্ধতি একান্ত প্রয়োজনের সময় করার অবকাশ আছে।
(তিন) লিল্লাহ ফান্ডের টাকা শুধু যাকাতের উপযুক্ত ব্যক্তিদের পিছনে তাদেরকে মালিক বানানোর শর্তে খরচ করা যেতে পারে।

الأدلة الشرعيۃ

الفقه الحنفي: 1/370(دار القلم )

هؤلاء هم الأصناف الثمانيه الذين يجوز دفع الزكاه إليهم، أوإلى بعضهم ويشترط أن يكون دفع الزكاةإليهم تمليكا لاإباحة ،كما مر معنا فلا تصرف الزكاه في وجوه البر التي لا تمليك فيها، نحو بناء مسجد وكفن ميت و قضاءدينه.

عمدة القاري: 9/10(زكريا)

والحق أنه كان ذلك لغرض صحيح فيه رفق للمعذور وليس فيه إبطال لحق الغير فلا بأس به من ذلك كما في قوله تعالي(خذ بيدك ضغثا)و إن كان لغرض فا سد كإسقاط حق الفقراء من الزكاة بتمليك ماله قبل الحول لولده أو نحو ذلك فهو حرام أو مكروه.

فقہی مقالات:– 3/167(زمزم)

سوال:ہسپتالوں کی تعمیر اور مدارس کی تعمیر پر زکوۃ خرچ کرنا چاہیں تو اسکا صحیح طریقہ کیا ہے ؟

الجواب: حقیقت میں تو تعمیرات پر زکوۃ کی رقم خرچ نہیں ہوسکتی، اور اجکل جو حیلہ تملیک کیا جاتا ہے جس میں جانبین کو معلوم ہوتا ہے کہ یہ حقیقت میں تملیک نہیں ہے ایسا حیلہ تو کسی طرح معتبر نہیں، لیکن یہ صورت ہو سکتی ہے ،کہ جن لوگوں کے لئے تعمیر کی جا رہی ہے واقعہ ان کو وہ رقم مالک بنا کر دی جائے اور چونکہ وہ جانتے ہیں یہ رقم ہمارے لئے اور ہمارے مصرف میں استمال ہوگئ لہذا پھر وہ لوگ وہ رقم اپنے طور پر خوش دل سے اس تعمیر کے لیے دے دی تو اس کی گنجائش ہے.

والله أعلم بالصواب

كتبه
إمام حسين
المتمرن بدار الإفتاء والإرشاد المركزية
بمركز الشيخ زكريا للبحوث الإسلامیة داكا
22/٥/١٤٤٢ ھ
শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *