রাসূল স. এর যুগের সুদ আর বর্তমান যুগের ইন্টারেস্ট কি এক?

বরাবর,
প্রধান মুফতি সাহেব দা.বা.
কেন্দ্রীয় দারুল ইফতা বাংলাদেশ
তত্ত্ববধানে- শায়খ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা
কুড়াতলী, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯

বিষয়: সুদ প্রসঙ্গে

জনাব, বিনীত নিবেদন এই যে, আমার জানা মতে সুদ ফার্সি শব্দ যার অর্থ বৈধ লাভ। যা রাসূল সা. এর যুগে ছিলো না। বর্তমান যুগে ব্যাংক বা বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকৃত টাকার লভ্যাংশকে সুদ বলা হয়, যা বৈধ। আর রিবা শব্দের অর্থ অবৈধ লাভ। যা রাসূল সা. এর যুগে ব্যক্তিগতভাবে মানুষ অতিরিক্ত লভ্যাংশের আশায় প্রদান করতো। যা আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে হারাম ঘোষণা করেছেন-
وَأَحَلَّ اللهُ البَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا

তাই সুদ এটা বৈধ। এ ব্যাপারে মিশরীয় মুফতিয়ানে কেরামের ফাতওয়াও রয়েছে।

পক্ষে
আব্দুল আজীজ
নিবেদক
ফায়েজ আহমেদ

الجواب باسم ملهم الصدق والصواب

সুদ ফার্সি শব্দ। আর ফার্সি অভিধানগুলোতে যার অর্থ فائده، نفع অর্থাৎ লাভ বলে ব্যক্ত করা হয়েছে। আমাদের জানা মতে কোনো অভিধানে বৈধ লাভ বলে তার অর্থ প্রকাশ করা হয় নাই। আর আভিধানিকভাবে সুদ যে কোনো লাভকে বলা হলেও শরীয়তের পরিভাষায় এক বিশেষ ধরনের অবৈধ লাভকেই সুদ বলা হয়েছে। তাছাড়া রিবা নামক যে লেনদেনকে আল্লাহ হারাম করেছেন তার মৌলিকত্ব ও বাংলাভাষায় ব্যবহৃত শব্দ সুদের মৌলিকত্বের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। বিধায় রিবা যে রকম হারাম সুদও তেমনই হারাম।
কোনো লেনদেনের ক্ষেত্রে ঋণ বা পাওনা টাকার অতিরিক্ত অর্থ প্রদানকে শর্ত করে নেয়াই সুদ। যার বহু পন্থা ও পদ্ধতি বর্তমানে বিদ্যমান।

গ্রাহকের প্রদানকৃত অর্থ ব্যাংক বিনিয়োগ করুক বা না করুক গ্রাহককে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সুদ বা মুনাফার নামে ব্যাংক দিতে বাধ্য। এই ধরনের চুক্তিকে শরীয়ত হারাম করেছে। তাই এই চুক্তির যে নাম করনই করা হোক না কেন মৌলিকত্ব পরিবর্তন করা না হলে তা হারাম হিসেবে বহাল থাকবে। বলাবাহুল্য যে, ব্যাংক গ্রাহকের অর্থকে আমানত নাম করণ করলেও শরয়ী দৃষ্টিতে তা ঋণ বা লোন হিসেবেই গণ্য। আর লোনের বিপরীত অতিরিক্ত প্রদানই হচ্ছে সুদ, যা সম্পূর্ণভাবে হারাম।
সুদ হারাম হওয়ার পিছনে একটি তাৎপর্য হলো এতে কোনো এক পক্ষ জুুলুমের শিকার হয়। তবে এটি তাৎপর্য হলেও সুদ হারাম হওয়ার মূল কারণ নয়; বরং, মূল কারণ বা ইল্লত হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ শর্ত করে নেওয়া। তাই কমার্শিয়াল লোনের কোনো ক্ষেত্রে জুলুমের বিষয়টি অনুপস্থিত হলেও মূল বিধানের মধ্যে কোনো পরিবর্তন হবে না। কেননা, তাৎপর্য বা হেকমত বিলুপ্ত হওয়ার দ্বারা মূল বিধানে পরিবর্তন ঘটে না; বরং ইল্লত বা মূল কারণ বিলুপ্ত হলেই কেবল বিধান বিলুপ্ত হয়। তাছাড়া রাসূল সা. এর সময় ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সুদ ভিত্তিক লেনদেন উভয়টি প্রচলন ছিলো। যারা বলে, ছিলো না তারা কুরআন-সুন্নাহর ব্যাপারে অজ্ঞ। আরবের ব্যবসায়ি কাফেলা কমার্শিয়াল লোন গ্রহণ করে ইয়ামেন ও শামে ব্যবসার জন্য যাত্রা করতোঃ এই ব্যাপারে সুরায়ে কুরাইশ অবতীর্ণ হয়। তাছাড়া আরো বহু প্রমাণাদি রয়েছে। নিচে উল্লেখিত হাদীসসমূহ দ্রষ্টব্য। তাই বর্তমান ব্যাংক সমূহ প্রণিত সুদি লেনদেন হারাম হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ নেই। এ লেনদেনের যে উদ্দেশ্য থাকুক না কেন এবং একে যে নামে নামকরণ করা হোক না কেন তা পূর্বের ন্যায় হারাম হিসেবেই সাব্যস্ত হবে।

মিশরীয় মুফতির যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। যুগেযুগে আধুনিক কিছু নামধারী আলেমরাই ইসলাম বিরোধীদের সুরে সুর মিলাতে গিয়ে কুরআন সুন্নাহর অপব্যাখ্যা করে কমার্শিয়াল লোনকে বৈধ করনের অপচেষ্টা চালিয়ে ছিলেন। প্রশ্নে উল্লেখিত মিশরীয় মুফতি তাদের উকালতী করছেন কিনা এ ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহের কারণ রয়েছে। আল্লাহ ভালো জানেন।

الأدلة الشرعية

سورة البقرة : الاية: 278-279

يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ . فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ

صحيح البخارى: رقم: 2086

نَهَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ وَثَمَنِ الدَّمِ وَنَهَى عَنْ الْوَاشِمَةِ وَالْمَوْشُومَةِ وَآكِلِ الرِّبَا وَمُوكِلِهِ وَلَعَنَ الْمُصَوِّرَ

مسند احمد: رقم:20695

عَنْ أَبِي حُرَّةَ الرَّقَاشِيِّ عَنْ عَمِّهِ قَالَ كُنْتُ آخِذًا بِزِمَامِ نَاقَةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ .. وَإِنَّ كُلَّ رِبًا كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ وَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَضَى أَنَّ أَوَّلَ رِبًا يُوضَعُ رِبَا الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ لَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ.

الجامع الصغير للطبرانى: رقم: 9728

كُلُّ قَرْضٍ جَرَّ مَنْفَعَةً فَهُوَ رِباً

تفسير الكبير للامام الرازى: 4/98( توفيقية)

الرِّوَايَةُ الْأُولَى: أَنَّهَا خِطَابٌ لِأَهْلِ مَكَّةَ كَانُوا يُرَابُونَ فَلَمَّا أَسْلَمُوا عِنْدَ فَتْحِ مَكَّةَ أَمَرَهُمُ اللَّهُ/ تَعَالَى أَنْ يأخذوا رؤوس أَمْوَالِهِمْ دُونَ الزِّيَادَةِ.وَالرِّوَايَةُ الثَّانِيَةُ: قَالَ مُقَاتِلٌ: إِنَّ الْآيَةَ نَزَلَتْ فِي أَرْبَعَةِ إِخْوَةٍ مِنْ ثقيف: مسعود، وعبد يا ليل، وَحَبِيبٌ، وَرَبِيعَةُ، بَنُو عَمْرِو بْنِ عُمَيْرٍ الثَّقَفِيِّ كَانُوا يُدَايِنُونَ بَنِي الْمُغِيرَةِ، فَلَمَّا ظَهَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الطَّائِفِ أَسْلَمَ الْإِخْوَةُ، ثُمَّ طَالَبُوا بِرِبَاهُمْ بَنِي الْمُغِيرَةِ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى هَذِهِ الْآيَةَ.

بدائع الصنائع: 4/400 (زكريا)

أما الأول فالربا في عرف الشرع نوعان ربا الفضل وربا النساء . أما ربا الفضل فهو زيادة عين مال شرطت في عقد البيع على المعيار الشرعي وهو الكيل أو الوزن في الجنس عندنا وعند الشافعي هو زيادة مطلقة في المطعوم خاصة عند اتحاد الجنس خاصة  وأما ربا النساء فهو فضل الحلول على الأجل وفضل العين على الدين في المكيلين أو الموزونين عند اختلاف الجنس

لغات کشواری: 262 (دار الاشاعات)

              سود – ن –فائدہ- نفع

والله أعلم بالصواب .

كتبه
علاء الدين 
المتمرن بدار الإفتاء والإرشاد المركزية
بمركز الشيخ زكريا للبحوث الإسلامية داكا
21/12/1439هـــ
শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *