মাহফিল উপলক্ষে রাস্তায় চাঁদা ও কন্ট্রাকে ওয়াজ করার বিধান

ফতোয়া নং ৯/১৭৬০

বরাবর,
প্রধান মুফতি সাহেব দা.বা.
কেন্দ্রীয় দারুল ইফতা বাংলাদেশ
তত্ত্বাবধানে- শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা
কুড়াতলী, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯

বিষয়: মাহফিল উপলক্ষে চাঁদা কালেকশন প্রসঙ্গে

আমাদের এলাকায় প্রতি বছর দুই দিন ব্যাপী তাফসিরুল কুরআন মাহফিল হয়। সেখানে খরচাদির একটা বিষয় থাকে। যেমন মাহফিল ব্যবস্থাপনার জন্য এবং বিশেষত বক্তাদের জন্য কথিত হাদিয়াস্বরূপ উল্লেখযোগ্য একটা এমাউন্ট জমা করা হয়। যা সাধারণত প্রত্যেক বাড়িতে দোকানে এবং রাস্তার পাশে মাইক কালেকশনের মাধ্যমে আসে। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য একটা অংশ থাকে যারা শুধু সমাজের চাপে পড়ে মনতুষ্টি ছাড়া টাকা দিতে বাধ্য হন।
জানার বিষয় হলো-
১. উক্ত সুরতে বক্তাদের কথিত হাদিয়া জায়েয হওয়ার কোন সুরত আছে কিনা?
২. কন্ট্রাক্ট আর বক্তার প্রসিদ্ধ ডিমান্ড বা হাদিয়া অর্থাৎالمعروف كالمشروط জায়েয কিনা?
৩. আমার শায়েখ উপরোক্ত দুই সুরত জায়েয নয় বলেছেন। তার কথা সঠিক কিনা?
দলিলপ্রমান ও ইল্লত সহ বিস্তারিত জানালে উপকৃত হতাম।

নিবেদক
মো: মুক্তাদিরুল ইসলাম
নিউটাউন, দিনাজপুর।

الجواب باسم ملهم الصدق والصواب

শরয়ী দৃষ্টিতে কারো সম্পদ তার পরিপূর্ণ সন্তুষ্টি ব্যতিরেকে গ্রহণ করা নাজায়েয এবং দ্বীনি তালিমের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা বৈধ।

সুতরাং প্রশ্নোক্ত সুরতে:
১. সমাজের লোকজন সামাজিক চাপে পড়ে যে অর্থ চাঁদা হিসেবে প্রদান করে তা গ্রহণ করা এবং তা দিয়ে ওয়াজ নসীহতের আয়োজন করা ও বক্তাদের পারিশ্রমিক বা হাদিয়া দেয়া জায়েয হবে না।

২. ওয়াজ ও তাফসীর করানোর জন্য যে সব বক্তাকে বিনিময় বা পারিশ্রমিক দেয়া হয় তা যদি বাৎসরিক, মাসিক বা সাপ্তাহিক সুনির্দিষ্ট সময় দ্বীনের জন্য নির্ধারিত ব্যক্তি হোন তাহলে তাদের ওয়াজ ও বয়ান তালিমের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তার বিনিময় প্রদান ও গ্রহণ বৈধ হবে। কিন্তু মাসিক, বাৎসরিক বা সাপ্তাহিক বয়ান না হয়ে অনির্দিষ্টভাবে যে ওয়াজ ও বয়ানের ব্যবস্থা করা হয় তা তালিম নয়; বরং দাওয়াত, যা সম্পূর্ণ আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে হওয়া জরুরী। এ জাতীয় ওয়ায়েজিনের পথ খরচ ছাড়া অতিরিক্ত কিছু দেয়া পারিশ্রমিক নয়; বরং হাদিয়া। হাদিয়ার ক্ষেত্রে অংক নির্ধারণ বা হাদিয়া প্রদানের দাবী বা চুক্তি করা গ্রহণযোগ্য মত অনুসারে অবৈধ। এ ক্ষেত্রে বক্তার অধিকার থাকবে সে যেখানে ইচ্ছা দাওয়াত গ্রহণ করবে, যেখানে ইচ্ছা দাওয়াত গ্রহণ করবে না। এতে তাকে দোষী করা যাবে না। আপনার শায়েখের কথা উপরোক্ত বিবরণ মতো হলে সঠিক, অন্যথায় নয়।

الأدلة الشرعية

السنن الكبرى للبيهقى: رقم الحديث: 11877

عن أبى حرة الرقاشى عن عمه أن رسول الله -صلى الله عليه وسلم- قال :« لا يحل مال امرئ مسلم إلا بطيب نفس منه ».

رد المحتار: 6/55 (سعيد)

قوله: (ويفتى اليوم بصحتها لتعليم القرآن الخ) قال في الهداية: وبعض مشايخنا رحمهم الله تعالى استحسنوا الاستئجار على تعليم القرآن اليوم لظهور التواني في الامور الدينية، ففي الامتناع تضييع حفظ القرآن، وعليه الفتوى وزاد بعضهم: الاذان والاقامة والوعظ،

الدر المختار: 5/372 (سعيد)

يجوز للامام والمفتي والواعظ قبول الهدية لانه إنما يهدي إلى العالم لعلمه،

كنز الدقائق: 3/160-161 (البشرى)

لا أجرة عسب التّيس والأذان والحجّ والإمامة وتعليم القرآن والفقه والفتوى اليوم على جواز الاستئجار لتعليم القرآن ….وعلى هامشه اعلم ان فى اكثر المتون اقتصروا على ذكر تعليم القران لكن زيد عليه كما فى الدر المختار وغيره ….. والوعظ. فهذا مجموع ما افتى به المتاخرون من مشايخنا.

 

والله أعلم بالصواب 

كتبه
مصطفى الحسين
المتمرن بدار الإفتاء والإرشاد المركزية
بمركز الشيخ زكريا للبحوث الإسلامية داكا
29/1/1441هـــ
শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *