মহাপরিচালকের পরিচিতি ও জীবনী

পরিচিতি ও সংক্ষিপ্ত জীবনী
ভূমিকা
জীবন অমূল্য সম্পদ। সফল ও স্বার্থকতার সাথে সময়কে কাজে লাগিয়ে মহামনীষীগণ আজো আমাদের মানসপটে স্বরণীয় হয়ে আছেন। জীবনকে সফল ও স্বার্থক করতে তাঁদের অনেক দুঃখ কষ্ট পোহাতে হয়েছে এবং পেরুতে হয়েছে অনেক প্রতিবন্ধকতা ও কণ্টকাকীর্ণ দুর্গম পথও। ছাত্রজীবন থেকেই যাদের উচ্চ মানসিকতা, অদম্য স্পৃহা আর উচ্চ শিখড়ে পৌঁছার বিনিদ্র পরিশ্রম। যার ফলে তাঁদের উন্নত মানসিকতা ও খোদাভীরুতা এবং হৃদয়স্পর্শী আচার-আচারণ আজ তারুণ্যের অগ্রযাত্রার আলোকোজ্জ্বল দিকনির্দেশনা। তারই প্রতিচ্ছবি হিসেবে আমাদের সামনে আবির্ভূত হৃদয়ের স্পন্দন মুহতারাম উস্তাদজী।

নাম ও জন্ম
নাম: মুহাম্মাদ মিযানুর রহমান।
পিতার নাম: মরহুম জনাব সাঈদুর রহমান।
দাদার নাম: মরহুম হাবিবুর রহমান (জোনামিয়া)।
তিনি ফেনী জেলার অন্তর্গত পরশুরাম থানাধীন পশ্চিম অলকা গ্রামে ১৯৬৩ সালের ১৬ মে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন।

লেখা পড়ার হাতেখড়ি
পড়া লেখার প্রতি প্রবল আগ্রহ- উদ্দীপনা এবং অনুসন্ধিৎসু মনোভাব শৈশব থেকেই তাঁর ভেতর লালিত ছিল। সে স্বপ্ন নিয়ে স্থানীয় মকতবে আদর্শ শিক্ষক মাও.যয়নুল আবেদীনের কাছে কুরআনে কারীমের প্রাথমিক সবক গ্রহণের মধ্য দিয়ে শিক্ষা জীবনে যাত্রা শুরু হয়। অতঃপর মামাতো ভাই মাও. আবু বকর সিদ্দীক সাহেবের কাছে কুরআন শরীফ খতম করেন। অন্যদিকে প্রাথমিক জ্ঞানার্জনের জন্য ধনিকুন্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়ে মাদ্রাসা অঙ্গনে চলে আসেন।

মাদ্রাসা শিক্ষা
হাটহাজারী মাদরাসার স্বনামধন্য ফাযেল মাও.আবু বকর সিদ্দীক সাহেবের উত্তম চরিত্রে মোহিত হয়ে এবং নিজেকে একজন বিশ্বসেরা আলেম হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে গদানগর “আজিজিয়া মাদরাসায়” ভর্তি হন। সেখানে ইবতেদায়ী, উর্দূ ও ফার্সি জামাতের কিতাবসমূহ পড়েন। অতঃপর ফেনী জেলার প্রসিদ্ধ ও প্রাচীন দ্বীনী প্রতিষ্ঠান “মুঈনুল ইসলাম ঘাটঘর” মাদরাসায় তাইসীর, মিজান ও নাহবেমীর জামাত অত্যন্ত সুনামের সাথে শেষ করেন। জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার তত্ত্বাবধানে ‘ইত্তিহাদুল মাদারিসিল আরাবিয়া’ এর কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় নাহবেমীর জামাতে নোয়াখালী, ফেনী ও কুমিল্লা জেলায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। ইলমী উৎকর্ষতা আর বড়দের উৎসাহ-উদ্দীপনা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার প্রতি তাঁর আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দেয়। অতঃপর হযরত মুফতি হাবিবুর রহমান সাহেব (যিনি করাচি লাহোর থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে দেশে শিক্ষকতায় প্রসিদ্ধতা লাভ করেন) এই রতœ চিনতে পেরে নিজ তত্ত্বাবধানে নিয়ে গেলেন এবং নিজের কর্মস্থল “ফুলগাজী আশরাফিয়া মাদরাসায়” হেদায়াতুন্নাহু জামাতে ভর্তি করান। সেখানেও অত্যন্ত সুনামের সাথে উক্ত জামাত সম্পন্ন করেন। ফলে প্রতিনিয়ত তিনি ছাত্রদের ঈর্ষার পাত্রে পরিণত হন।

চট্টগ্রাম
মুফতি হাবীবুর রহমান সাহেবের পরামর্শে তিনি সুপ্রাচীন ও সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী “মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী” মাদরাসায় ভর্তি হন এবং সেখানেও কাফিয়া ও শরহে জামীর জামাত সুনামের সাথে সমাপ্ত করেন। এরপর মুরব্বীদের পরামর্শে শাইখুল মা‘কুলাত হযরত মাও. ইলিয়াস সাহেবের বিশেষ আকর্ষণে “জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ায়” চলে আসেন এবং সেখানে সুল্লামুল উলুম জামাতে ইত্তিহাদুল মাদারিসিল আরাবিয়া বোর্ডে সমাপনী পরীক্ষায় সারাদেশে মেধা তালিকায় ১ম স্থান অধিকার করেন। সেখানে জালালাইন জামাত অতঃপর ফুনুনাতে আলীয়া তথা মা‘কুলাতে এক বছরের বিশেষ কোর্স সম্পন্ন করেন। এসব সুনাম-সুখ্যাতির কারণে তিনি তৎকালীন দেশবরেণ্য উলামায়ে কিরামের হৃদয়ে স্থান করে নেন। যাঁদের মধ্যে হাটহাজারী মাদ্রাসার আল্লামা আবুল হাসান (আবুল সাহেব হুজুর), আল্লামা আহমদ শফী, আল্লামা কাসেম সাহেব, আল্লামা শাইখ আহমদ, আল্লামা হাফেজ কাসেম সাহেব এবং জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার খতীবে আজম আল্লামা সিদ্দীক আহমদ সাহেব, হাজী ইউনুস সাহেব রহ., ফকীহুল মিল্লাত মুফতি আবদুর রহমান দা.বা., আল্লামা ইলিয়াস রহ., আল্লামা সুলতান যাওক সাহেব, মাও. আইয়ুব সাহেব রহ. অন্যতম। এছাড়াও আরো অনেক মহামনীষী যাঁদের স্নেহের পরশ এ সম্ভাবনাময় তরুণের ছাত্রজীবনকে করেছিল চমকপ্রদ ও সৌন্দর্যমণ্ডিত ।

ঢাকায় কিছুক্ষণ
হৃদয়স্পটে বড় হওয়ার স্বপ্ন তাঁকে পাকিস্তান যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করে। নিজের জ্ঞানকে আরো শাণিত করতে এবং নিজের হাদীসের সনদকে আরো আ‘লী করতে আর হাদীস ও ফেকাহ শাস্ত্রের ওপর গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন ও মহামনীষীদের ছাত্র হওয়ার মত সৌভাগ্য অর্জন তাঁকে পাকিস্তান যাওয়ার প্রতি আরো বেশি প্রেরণা যোগায়। যাঁদের ছাত্র হওয়ার বাসনায় তিনি পাকিস্তান যাওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ হন, তাদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ইসলামী অর্থনীতির আাধুনিক রূপকার ও যুগশ্রেষ্ঠ ফকীহ আল্লামা মুফতি তকী উসমানী দা.বা.। পাকিস্তান যাওয়ার পথে ঢাকায় অবস্থানকালে ঐতিহ্যবাহী “জামিয়া কোরআনিয়া লালবাগ” মাদরাসায় কিছুদিন মিশকাতের সবক এবং সেই সাথে ভিসার কার্যক্রমও চালিয়ে যান। সেখানে তিনি মুহাদ্দিস সাহেব খ্যাত হযরত মাও. হেদায়তুল্লাহ সাহেব ও শাইখুল হাদীস আাল্লামা আজীজুল হক রহ. এর কাছে দরসে মিশকাত গ্রহণ করেন।

করাচির পথে
সে বছর কুরবানীর আগেই ভিসা সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়। অতঃপর বিলম্ব না করেই তিনি “দারুল উলুম করাচির” উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। করাচি গিয়ে তিনি পাকিস্তানের বিখ্যাত দ্বীনি প্রতিষ্ঠান মুফতি রফী ও তকী উসমানী দা.বা.এর তত্ত্ববধানে পরিচালিত “দারুল উলুম করাচিতে” মিশকাত জামাতে ভর্তি হন এবং প্রথম পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে ৩য় স্থান, দ্বিতীয় ও সমাপনী পরীক্ষায় ১ম স্থান অধিকার করেন। সেই সাথে পরের বছর দাওরায়ে হাদীসে ভর্তি হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ১৪০২-০৩ হিজরী সনে দাওরায়ে হাদীস পড়েন এবং বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া পাকিস্তান বোর্ডের সমাপনি পরীক্ষায় দারুল উলুম করাচিতে ১ম ও পুরো পাকিস্তানে ৩য় স্থান অধিকার করেন।
এ দিকে দাওরায়ে হাদীস শেষ করার পরপরই ইরানের বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি “জামিয়া কুম” এর পক্ষ থেকে স্কলারশিপ এবং সরকারী খরচে ভর্তির জন্য জোরালো প্রস্তাব আসে। তিনি তাঁর বিশেষ তালীমী মুরুব্বী আল্লামা মুফতি তকী উসমানী দা.বা. এর পরামর্শে এ প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে হযরতের সংস্পর্শে থেকে জীবন গড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেণ।

ফতোয়া বিভাগে ভর্তি ও বিশেষ ডিগ্রি লাভ
হযরত মুফতি সাহেব দাওয়ারে হাদীস পড়াকালীন দারুল উলূম মাশায়েখ আসাতিযার নিকট তার মেধা, যোগ্যতা ও প্রতিভার কারণে প্রিয় ও আস্থাভাজন হয়ে উঠেন, বিশেষ করে প্রতি পরীক্ষাতে প্রথম স্থান এবং দাওয়ারে হাদীসে বেফাকের পরীক্ষায় তৃতীয় স্থান অধিকার করায় আল্লাম তাকী উসমানী দা: বা: তাকে ইরান না যেতে দিয়ে রমজানের শুরুতেই নিজস্ব তত্ত্বাবধানে দারুল ইফতায় ফিকহ-ফতোয়ার গবেষণার কাজে আত্ম নিয়োগ করার সুযোগ করে দেন। যার ফলে বছরের শুরুতেই শাওয়াল মাসে তার ফতোয়া বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে যায় এবং তার কৃতিত্বের কারণে পরীক্ষার উর্ধে রেখেই তার ভর্তির কাজ সম্পন্ন হয়।
ফতোয়ার বিভাগের প্রথম বছরই শাইখুল ইসলাম আল্লামা তাকী উসমানী তাকে ফতোয়ার কাজের পাশাপাশি তাকমিলায়ে ফাতহুল মুলহিম গ্রন্থের তাসনীফী কাজে হযরতের একনিষ্ঠ সহোযোগী হিসাবে বেছে নেন।
এদিকে তিনি অত্যন্ত সুনামের সাথে ইফতা প্রথমবর্ষ শেষ করেন এবং সমাপনি পরীক্ষায় প্রথম স্থান লাভ করেন। ইফতা দ্বিতীয় বর্ষের মাঝের দিকে হযরত আল্লামা তকী উসমানী ও আল্লামা রফী উসমানী দা.বা. এর বিশেষ তত্ত্বাবধানে “হাদীসে সুজূদে শামসের উপর বৈজ্ঞানিকদের উত্থাপিত দশটি প্রশ্নের খ-ন” এর উপর প্রবন্ধ লেখার কাজে হাত দেন। এবং বছরের শেষের দিকে হযরত তকী উসমানী দা.বা. এর পরামর্শে করাচির একটি ইলমী প্রতিষ্ঠানে (তাবলীগী কলেজ, মুহাজির ক্যাম্প) মুহাদ্দিস ও মুফতি হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। হাদীস ও ইফতার পাশাপাশি একটি মাসিক আরবী প্রত্রিকায় নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন।
মাত্র তিন মাসের মাথায় “জামিয়াতুল ইমাম মোহাম্মদ বিন সাউদ ইউনিভার্সিটি”র স্কলারশিপ নিয়ে উচ্চ ডিগ্রি লাভের জন্যে তিনি এ প্রতিষ্ঠান ছেড়ে সৌদি আরব গমণ করেন।
উল্লেখ্য, সৌদি আরব যাওয়ার পর দারুল উলূম করাচিতে প্রথমবারের মত যান ৫০ সালা দস্তারবন্দির বিশেষ অনুষ্ঠানে দস্তার নিতে। সে সময় আল্লামা মুফতি তকী উসমানী দা.বা. তাকে ফতোয়াডিগ্রির উপর এক বিশেষ সনদ প্রদান করেন। যা পরে জাতীয় মসজিদ বাইতুল মুর্কারমের খতীব হযরত মাওলানা উবাইদুল হক (রহ.) মন্তব্য করেছিলেন যে, সম্ভবত শাইখুল ইসলামের কাছ থেকে এ ধরনের সনদ এই প্রথম কেউ লাভ করল, যা সত্যিই নজিরবিহীন।

জামিয়াতুল ইমাম রিয়াদের পথে
কয়েক মাস যেতে না যেতেই আল্লাহর অপার অনুগ্রহে ১৪০৫ হিজরী সনে তিনি “ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ আল ইসলামিয়া” ইউনিভারসিটির পক্ষ থেকে স্কলারশিপ লাভ করেন এবং কিছু দিন পর ভিসার যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হলে বিলম্ব না করে আল্লামা তকী উসমানীর পরামর্শ ও অনুমতিক্রমে উচ্চতর গবেষণার জন্য সৌদি আরব চলে যান। সেখানে “জামেয়াতুল ইমাম রিয়াদ” সৌদি আরবে এক বছর আরবি ভাষার উপর ডিপ্লোমা করেন। রিয়াদে অবস্থানকালে তিনি হযরত শাইখ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দার সান্নিধ্যে গমন করে তার থেকে ইস্তিফাদার সুভাগ্য লাভ করেন। পরের বছর জামিয়াতুল ইমামের মদিনা শাখায় “কুল্লিয়াতুত দাওয়া ওয়াল্ ইল্মি ওয়াল ইসতিশরাক” বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে দক্ষতার সাথে চার বছর পড়াশুনা করে স্টারমার্কে উত্তীর্ণ হয়ে ‘লিসান্স ডিগ্রী’ অর্জন করেন। রিয়াদ ও কুল্লিয়াতুত দাওয়া ওয়াল ইল্মি ওয়াল ইসতিশরাকে তিনি যেসব মনীষীদের থেকে র্দস গ্রহণ করেন, তাঁদের মধ্যে শাইখ আবদুল্লাহ বিন্ বায রহ., শাইখ উসাইমিন, শাইখ আতীয়া সালেম, আহমদ আল খররাত, আব্দুল মজীদ আল-মুআয ও শেখ আব্দুল্লাহ রুহাইলী বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মদিনা থাকাকালীন তিনি শাইখ মুহাম্মদ আউয়াল এর সান্নিধ্যে থাকারও সৌভাগ্য লাভ করেন এবং মাও. আশেক এলাহী বুলন্দশহরী রহ. এর সাথে লেখালেখি ও ইলমী গবেষণামূলক কাজে সহযোগিতা করেন। লিসান্সের সমাপনী পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন তুরকি তাঁকে বিদায়ী ছাত্রদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মাস্টার্স এ ভর্তির জন্য স্বাগত জানান। যা অনারবদের জন্য দুরহ ও দুঃসাধ্য ছিল। তিনি এ অফার পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত হন এবং ভর্তি হওয়ার পূর্ণপ্রস্তুতি গ্রহণ করেন।

পারিবারিক জীবনে পদার্পণ
এদিকে রিয়াদের জামিয়াতুল ইমামে আরবীর উপর ডিপ্লোমা সম্পন্ন করার পর সে বৎসরই প্রথমবারের মত দেশে ফিরেন। দেশের মুরব্বীদের পরামর্শে হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ. এর বিশিষ্ট খলীফা দারুল উলুম দেওবন্দের স্বনামধন্য ফাযিল মাও. মোহম্মদ আইয়ুব সাহেব রহ. এর দ্বিতীয় কন্যার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। যিনি তাঁর জীবনকে সমৃদ্ধ ও সুখময় করে তোলেন। জামিয়াতুল ইমামের মদিনা শাখায় অধ্যয়নের দ্বিতীয় বছর তিনি পূণ্যভূমি মদিনায় স্বপরিবারে বসবাসের সৌভাগ্য লাভ করেন এবং পুরো উদ্যমতার সাথে ইলমী যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে মনোযোগী হন।

ফক্বীহুল মিল্লাত মুফতি আব্দুর রহমান দা.বা.কর্তৃক দেশে ফেরার প্রস্তাব :
লিসান্স ডিগ্রি অর্জনের পর মাস্টার্স ডিগ্রিতে ভর্তির প্রস্তুতি চলছে, সে বছর রমযানের পরে হঠাৎ একদিন মসজিদে নববীর ‘বাবে উমরে’ ফক্বীহুল মিল্লাত দা.বা. এর সাথে সাক্ষাৎ। তিনি হযরতকে সাথে করে মদিনার ‘চান মিয়া মুসাফির খানায়’ যান। রাতভর তাঁর সাথে পটিয়ায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার ইতিবৃত্ত ও মনের দুঃখ-বেদনা ব্যক্ত করেন। নিজেকে স্বস্তিতে আনার প্রচেষ্টা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও শুনান। তিনি তাঁর প্রিয় উস্তাদকে সান্ত¦না দেন, আর ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেন। এক পর্যায়ে ফক্বীহুল মিল্লাত দা.বা. বললেন,“পটিয়ার জন্য অনেক কিছু করেছি তা সত্বেও এখন আমি খালি হাতে বের হয়ে এসেছি। ওমরাতে আসার পথে ভারতের হারদুয়ী গিয়েছিলাম। সেখানে হযরত ওয়ালা হারদূয়ী রহ. আমাকে ঢাকায় প্রতিষ্ঠান করার পরামর্শ দেন। এখন আমি চাই তুমি আমার সাথে থাকবে, আমরা দু’জন মিলে ছোট আকারে একটা দারুল ইফতা প্রতিষ্ঠা করব। ছাত্র না এলে আমরা একে অপরকে কিতাব পড়ে শোনাবো, আশাকরি আমার এ প্রত্যাশা পূরণে তুমি এগিয়ে আসবে। তাই এখন থেকে দেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। তিনি এসব প্রস্তাব ও দরদ্মাখা কথা শুনে হতভম্ব হয়ে পড়লেন। তিনি বলেন, হযরত আপনার হুকুম শিরোধার্য কিন্তু আমার সামনে তিনটা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। ১. পূণ্যভূমি মদিনা ছেড়ে পরিবার হয়ত দেশে যেতে সম্মতি দেবে না। ২. আমার বহুদিনের কাক্সিক্ষত মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জনের বিরাট একটি সুযোগ এসেছে তার কি হবে?। ৩. মাও. আশেক এলাহী বুলন্দশহরী সাহেবের এর সম্মতি নেয়া। ফক্বীহুল মিল্লাাত দা.বা. এসব সমস্যার যুৎসই সমাধানের পরামর্শ দেন এবং তাঁকে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নেয়ার তাগিদ দেন। অনেক দুঃখ কষ্টের সাথে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মাটি চাপা দিয়ে মদীনা ছাড়ার বিচ্ছেদ বিরহ সয়ে উচ্চ শিক্ষার মনভরা স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে অবশেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতি শুরু করলেন।

হাজী ইউনুস সাহেব রহ. এর সাথে সাক্ষাৎ
তিনি দেশে ফেরার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করলেন মাত্র। এদিকে হজের মৌসুম শুরু হয়ে গেল। একদিন হঠাৎ খবর পেলেন তাঁকে হাজী সাহেব রহ. খুঁজছেন। বিলম্ব না করে ‘চান মিয়া মুসাফির খানায়’ তাঁর সাথে সাক্ষাত করেন। হাজী সাহেব রহ. মুফতি আব্দুর রহমানের পরিকল্পনায় সাড়া না দিয়ে জামিয়া পটিয়ায় শিক্ষকতা করতে হবে বলে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর সঙ্গে রেখে মক্কা শরীফ তারপর জেদ্দা নিয়ে নিজেই ‘রাবেতা আল-আলম আল ইসলামীয়াতে’ তাঁর শিক্ষক নিয়োগের জন্য যাবতীয় কাজ নিজের হাতেই সম্পন্ন করেন। যার ফলে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে রাবেতার তত্ত্বাবধানে জামিয়া পটিয়াতে শিক্ষকতার বিষয়টি চুড়ান্ত করে নেন এবং তাঁকে নিয়োগপত্র ঢাকাস্থ অফিস থেকে তুলে নেয়ার নির্দেশপত্র হস্থান্তর করেন। বিলম্ব না করে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে দেশে ফিরে এসে জামিয়া পটিয়াতে যোগদানের জোর তাগিদ দেন হাজী সাহেব রহ.।

বাংলাদেশের পথে মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ
তিনি দু’জন প্রাণপ্রিয় উস্তাদের দুই বিপরীত সিদ্ধান্তে দোদুল্যমান অবস্থায় অবশেষে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। দেশে ফিরে মুরব্বীদের পরামর্শে ফক্বীহুল মিল্লাত দা.বা. এর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং হাজী সাহেবের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পরামর্শ চান। মুফতি আব্দুর রহমান সাহেব তাঁকে পটিয়ায় নিয়োগ বাদ দিয়ে তারই সাথে ঢাকায় একটি দারুল ইফতা প্রতিষ্ঠা করার কাজে মনোনিবেশ করার আদেশ করেন। যার ফলে মাসব্যাপী মেহনতের বিনিময়ে ঢাকাস্থ উত্তরার জসীমুদ্দিন এভিনিউতে ‘মারকাযুল ফিকরিল ইসলামী’ নামে দারুল ইফতা প্রতিষ্ঠিত হয়।

ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা প্রতিষ্ঠা
হযরত মুফতি আব্দুর রহমান দা.বা. এর নির্দেশনা ও মুফতি মিযান সাহেবের পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৯১ সালের ৫মে মারকাযের আনুষ্ঠানিক পদযাত্রা শুরু হয়। তিনি মারকাযের যাবতীয় প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ব্যবস্থা করা থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানোর সকল কাজ আঞ্জাম দেন। রমযানের পর ১৭ই শাওয়াল হযরত ওয়ালা হারদুয়ী রহ. এর হস্ত মুবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন হয়। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই তিনি মারকাযের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অত্যন্ত সুনাম ও বিচক্ষণতার সাথে আঞ্জাম দিয়ে আসছেন। একাধারে মারকাযকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা ও জাতির সামনে পরিচিত করার লক্ষ্যে সার্বক্ষাণিক আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। শিক্ষা সচিবসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আন্তরিকতার সাথে পালন করেন। ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটি দেশব্যাপী আদর্শ মারকায হিসেবে পরিচিত লাভ করে। এক কথায় আজকের এ ‘ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার’ ফক্বীহুল মিল্লাতের ফিকির ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ সাহেবের অনির্বচনীয় মেহনত, দক্ষতা ও যোগ্যতারই ফসল।

মারকাযুল ফিকরিল ইসলামি থেকে মারকাযুশ শাইখে
দীর্ঘ ২৩ বছর বসুন্ধরার জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করেছেন। সারা দেশে বসুন্ধরাকে পরিচিত করতে ফক্বীহুল মিল্লাতের পাশাপাশি তাঁকেও অনেক ঘাম ঝরাতে হয়েছে। শুধু প্রতিষ্ঠান নয়; সরকারী-বেসরকারী নানা অঙ্গনে ফক্বীহুল মিল্লাতের মুখপাত্র হিসাবেও তিনি জাতির সামনে আবির্ভূত হয়েছেন বহুবার। এমনকি তিনি ঢাকার মাদারিস ও উলামাদের সাথে বসুন্ধরার সম্পর্কের সমন্বয়কও বটে। বসুন্ধরার প্রতিটি বালি-কণা এর জ্বলন্ত সাক্ষী, তেমনি সারা দেশের আলেম সমাজের কাছেও তা অজানা নয়। কিন্তু আফসোস! ষড়যন্ত্রকারীদের কারণে পরিবেশ দূষিত হয়ে যাওয়ায় একদিন তিনি সবার অজান্তে প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে আসেন এবং পরাক্রমশালী রবের কাছে মারকাযকে অর্পণ করেন। তবুও তিনি কোনোদিন কোনভাবে তার মুরব্বি, উস্তাদ ও প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ফক্বীহুল মিল্লাতের সাথে বিরোধ-বিবাধে অংশ নেননি; বরং সর্বদা তাঁর ইচ্ছার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে আসছেন। যা বর্তমান যুগে উদারতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত বলে মনে করেন দেশের উলামা-মাশায়েখ।

মারকাযুশ শাইখ প্রতিষ্ঠা
দেশি-বিদেশি মুরব্বীদের নির্দেশে এবং ছাত্রদের অনুরোধে ১৪৩২ হিজরী মোতাবেক ২০১১ সালের মাহে রমযানে মুফতিয়ে আযম পাকিস্তান আল্লামা রফী উসমানী দা.বা.এবং শাইখুল ইসলাম মুফতি তকী উসমানী দা.বা. এর পরামর্শে ও তত্ত্বাবধানে কুড়িল, কুড়াতলি আল-হেরা টাওয়ারে “শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা” নামে উচ্চতর ইসলামী গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। প্রবাদ আছে “ফুল যেখানে মৌমাছি সেখানে” একথার একটুও ব্যতিক্রম হলো না। রমযানের পরপরই বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শত শত ছাত্র মধু আহরণ করতে ছুটে আসে। আর তিনিও অত্যন্ত উদ্যমতার সাথে বসে পড়েন এবং দরসে হাদীস, দরসে ফিকাহ ও দরসে তাফসীরের ঝুড়ি উপড়ে ছাত্রদের খোরাক দিতে থাকেন। যার ক্রমধারা আস্তে আস্তে আরো বেগবান হচ্ছে। আল্লাহ তায়ালা এ প্রতিষ্ঠানকে কবুল করুন এবং তার বহুমুখি খিদমাতকে বিশ্ববাসীর জন্য কিয়ামত পর্যন্ত জারী রাখুন।

জাতীয় পর্যায়ে তার অসামান্য অবদান
তিনি নিজের মূল্যবান সময়কে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে কাজে লাগিয়েছেন এবং কওমী মাদরাসার বিশাল জনগোষ্ঠীকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছেন। বহুদিন থেকেই বেফাকুল মাদারিসিল আরাবায়িা বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক হিসাবে একনিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি সম্মিলিত কাওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের যুগ্ম সেক্রেটারী জেনারেল পদেও সমাসীন ছিলেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পর্যালোচনা ও মতামত প্রদান কমিটির সদস্য ও ফাতওয়া বিষয়ে হাইকোর্টে মতামত প্রদানকারী পাঁচজন ইসলামি আইনজ্ঞের মধ্যে অন্যতম। আহলে হক উলামাদের সমন্বয়ে গঠিত আকীদাগত ভ্রান্তি নিরসনে প্রতিষ্ঠিত “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত পরিষদ বাংলাদেশ”এর মহা-সচিব। এছাড়াও দেশ-বিদেশের বহু জাতীয়-আন্তর্জাতিক ও ধর্মীয় ইস্যুতে তিনি অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন।

‘শাইখুল হাদীস’ মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ
আল্লাহ তায়ালা যার সফলতা চান দুনিয়ার কেউ তা ঠেকাতে পারে না। দিগ্বিদিকে তার ইলমী কার-নামা ছড়িয়ে পড়ায় জাতি তার জ্ঞানের আলো অন্বেষায় আজ বিভোর। ইলমী ইদারাগুলো আজ তার মত দক্ষ ও কর্মঠ জ্ঞানীদের পদধূলিতে ধন্য। তিনি ফিকাহ্শাস্ত্র থেকে শুরু করে দরসে হাদীসের উজ্জ্বল নক্ষত্ররূপে মসনদে হাদীসের যোগ্য উত্তরসূরী। বর্তমানে তিনি বেশ কয়েকটি মাদরাসায় শাইখুল হাদীস হিসেবে মসনদে হাদীসকে অলঙ্কিত করে চলছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ইদারা: শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, উত্তরা বাইতুস সালাম মাদরাসা এবং মিরপুর জামেউল উলুম মাদরাসাসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠানে বুখারীর দরস দিয়ে থাকেন। দেশ-বিদেশে একজন খ্যাতনামা বক্তা হিসেবেও প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্মেলন/সেমিনারে মাদারিসে কাওমিয়্যাহ ও উলামায়ে হক্কানির মুখপাত্র হিসাবে বিশেষ ভূমিকা পালন করছেন। বহু যুগোপযোগী গবেষণামূলক গ্রন্থের লেখক ও গবেষক। মারকাযুশ শাইখ থেকে তার রচয়িত বহু গ্রন্থ ইতিমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে এবং আরো বহু গ্রন্থ প্রকাশতব্য রয়েছে।

বাইয়াত ও খেলাফত
তিনি আল্লামা আশরাফ আলী থানবী রহ. এর প্রতিচ্ছবি হযরত মাওলানা আবরারুল হক (হারদুয়ী হযরত) রহ. এর হাতে মক্কা শরীফে বাইয়াত গ্রহণ করেন। অত্যন্ত মুজাহাদার সাথে সূলুক ও তরীকতের লাইনে মেহনত করতে থাকেন। আধ্যাত্মিক দুরদর্শিতায় মুগ্ধ হয়ে হারদুয়ী হযরত রহ. তাঁকে খেলাফত প্রদানে ধন্য করেন। হারদুয়ী হযরতের বিশেষ খলীফাদের মধ্যে তিনিও একজন। হযরতের ওফাতের পর তিনি শাইখুল ইসলাম আল্লামা তকী উসমানী দা.বা. এর সাথে আধ্যাত্মিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। বর্তমানে শাইখুল ইসলাম সাহেব দা.বা. তাঁর ইসলাহী মুরুব্বী।

বর্তমান কার্যক্রম
বর্তমানে তিনি “শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার” এর প্রতিষ্ঠতা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ছাত্রদের আধুনিক শিক্ষা-কারিকুলামের মাধ্যমে যোগ্য, দক্ষ ও সৃজনশীল করে গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এছাড়াও দেশ-বিদেশে মানুষের হিদায়াতের জন্য সত্যের বাণী নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন নিরলসভাবে। এভাবে বিনিদ্র ধারাবাহিক মাহফিল, দরস ও ফিকাহ-ফতওয়ার কাজেই নিজেকে নিমগ্ন রাখেন। সেই সাথে তিনি উত্তরা ৪ নং সেক্টরের কেন্দ্রীয় মসজিদে অত্যন্ত সুনাম ও সুখ্যাতির সাথে খেতাবতের গুরুদায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে ফিরাকে বাতেলার উপর সেমিনার করে আসছেন এবং ধর্মীয় বিভিন্ন ইস্যুতে বেশ সফলভাবে লেখালেখির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

লেখালেখি
তিনি এ যাবত বহু গ্রন্থ ও পুস্তিকা রচনা করেছেন। যেগুলো বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে।
তাঁর লিখিত বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বই হলো:
১. ছবি ও ভিডিও এর শরয়ী বিধান [ফক্বীহুল মিল্লাত ফাউন্ডেশন কতৃক প্রকাশিত]
২. লেবাসে শরয়ী (উর্দূ) [ফক্বীহুল মিল্লাত ফাউন্ডেশন কতৃক প্রকাশিত]
৩. কুরআন হাদীসের আলোকে শবে বরাত [ফক্বীহুল মিল্লাত ফাউন্ডেশন কতৃক প্রকাশিত]
৪. আহকামে সালাত [শাইখ যাকারিয়া রচনা ও গবেষণা বিভাগ কতৃক প্রকাশিত]
৫. আহকামে যাকাত [শাইখ যাকারিয়া রচনা ও গবেষণা বিভাগ কতৃক প্রকাশিত]
৬. আহকামে রমযান [শাইখ যাকারিয়া রচনা ও গবেষণা বিভাগ কতৃক প্রকাশিত]
৭. আহকামে কুরবানী [শাইখ যাকারিয়া রচনা ও গবেষণা বিভাগ কতৃক প্রকাশিত]
৮. আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বনাম প্রচলিত ভ্রান্ত মতবাদ [আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত পরিষদ কতৃক প্রকাশিত]
৯. কুরাআন-সুন্নাহর দৃষ্টিতে “নারী উন্নয়ন নীতিমালা ২০১১”[ফক্বীহুল মিল্লাত ফাউন্ডেশন কতৃক প্রকাশিত]
১০. সিরাতে মুস্তাকিম (তত্ত্বাবধানে) [শাইখ যাকারিয়া রচনা ও গবেষণা বিভাগ কতৃক প্রকাশিত]
১১. আহলে হাদীসের জন্মকথা (প্রকাশিতব্য)
১২ শরয়ী লিবাস (বাংলা)

তথ্য সংগ্রহ ও শ্রুতিলিখন: মুফতি শরিফ মালিক (হযরতের ছাত্র)