বিদেশ থেকে আসা ফ্রোজেন মুরগি বিক্রি করার বিধান

ফতোয়া নং ৯/১৭৭৯

বরাবর,
প্রধান মুফতি সাহেব দা.বা.
কেন্দ্রীয় দারুল ইফতা বাংলাদেশ
তত্ত্বাবধানে- শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা
কুড়াতলী, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯

বিষয়: ব্যবসা প্রসঙ্গে

জনাব মুফতি সাহেব আমি একজন ওমান প্রবাসী। এখানে আমি ব্যবসা করি। বিভিন্ন জিনিস বিক্রির সাথে সাথে মুরগীও বিক্রি করি। যে মুরগীগুলো বিভিন্ন দেশ যেমন পাকিস্তান, ইন্ডিয়া ও ব্রাজিল ইত্যাদি দেশ থেকে জবাইকৃত ও প্যাকেটকৃত হয়ে এখানে আসে। আমি জানিনা মুরগীগুলো কি মুসলমানে জবাই করে নাক বিধর্মীরা জবাই করে। আর মুরগীর প্যাকেটে হালাল লিখা থাকে।
তাই আমি মুফতি সাহেবের নিকট জানতে চাচ্ছি আমর জন্য এই মুরগী গুলো বিক্রি করা কি জায়েয হবে? যদি নাজায়েয হয়ে থাকে তাহলে জায়েয হওয়ার কোন পদ্ধতি আছে কি? এবং এতদিন যে মুরগীগুলো বিক্রি করেছি সেগুলোর হুকুম কি? বিস্তারিত জানালে চিরকৃতজ্ঞ থাকবো।
উল্লেখ্য এই মুরগীগুলো গোটা আরব দেশে বিক্রি হয় এবং অধিকাংশ মানুষ এগুলো খায়।

নিবেদক
মো: আলমগীর
ওমান প্রবাসী।

الجواب باسم ملهم الصدق والصواب

শরয়ী নীতিমালার আলোকে গোশত হালাল হওয়ার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। যতক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হালালের বিষয়টি জানা যাবে না, তা খাওয়া ও তার ব্যবসা করা কোনটি বৈধ নয়।
প্রশ্নে বর্ণিত বিবরণে মুসলিম দেশ থেকে হালালের সিলমোহর সহ যে গোশত আসে তা হালাল হওয়াই অগ্রগণ্য বা প্রাধান্য। যতদিন এগুলো সম্পর্কে হালাল না হওয়ার বহুবিধ প্রমাণ না মিলবে তাকে হারাম বলা যায় না। এ কারণে তার ব্যবসা করাও হালাল হবে।
পক্ষান্তরে অমুসলিম দেশ থেকে আমদানিকৃত গোশতের প্যাকেটে হালালের সিলমোহর থাকলেও তা হারাম হওয়াই প্রাধান্যতা পাবে। বিশেষ করে ব্রাজিল ইত্যাদি দেশ থেকে আমদানিকৃত গোশত গবেষণায় ধরা পড়েছে, তারা মেশিনে শরয়ীত পরিপন্থী পন্থায় জবেহ করে থাকে। অতঃপর হালালের সিল মোহর লাগিয়ে ফোকাস করে। তাই অমুসলিম দেশের লেবেলের উপর আস্থা রাখা যায় না বিধায় এসব গোশত খাওয়া ও ব্যবসা করা উভয়টি বর্জণীয়। একমাত্র প্রকৃত আহলে কিতাবের জবেহকৃত বলে নিশ্চিত হওয়া গেলে এবং মেশিনের জবাই না হয়ে হাতের জবাই হলে তা হালাল বলা যায়, অন্যথায় নয়।
সুতরাং আপনি উপরোক্ত নীতিমালার আলোকে যে সব গোশত হালাল একমাত্র তার ব্যবসা করতে পারেন। হালাল বলা যায় না এমন গোশতের ব্যবসা বর্জন করুন। যা করে ফেলেছেন তার জন্য আল্লাহর কাছে তাওবা ও ইস্তেগফার করুন।

الأدلة الشرعية

بحوث في قضايا فقهية معاصرة: 55 (دار العلوم كراتشى)

وقد ثبت بحديث عدي بن حاتم ”: أن الأصل في لحوم الحيوان المنع ـ حتى يثبت خلافه ـ

إذا اجتمع في حيوان وجوه مبحة وجوه محرمة فالترجيح للوجوه المحرمة، وهذا أيضا يدل على أن الأصل في اللحوم المنع حتى يثبت يقينا أنه حلال ـ وهذا أصل ذكره غير واحد من الفقهاء.

بحوث في قضايا فقهية معاصرة: ٤٤٣-٤٤٤(دار العلوم كراتشى)

والنصارى اليوم خلعوا ربقة التكليف في قضية الذبح وتركوا أحكام دينهم، فلا يلتزمون بالطرق المشروعة، فلا تحل ذبائحهم اليوم إلا إذا ثبت في لحم بعينه أنه ذكاه نصراني بالطريق المشروع، فلا تحل اللحم الذي يباع في أسواقهم ولا يعرف ذابحه. وما يستورد من اللحوم من البلاد غير المسلمة لا يجوز أكلها، وإن كانت توجد عليها التصريح بأنها مذبوحة على الطريقة الإسلامية، فإنه قد ثبت أن هذه الشهادات لا يوثق بها، والأصل في أمر اللحوم المنع .

الفتاوى الآمدية: ٧٨/٢(دار الكتب العلمية)

والشهادات المكتوبة على العلب أو على الكرتونات ” أنها مذبوحة على الطريقة الإسلامية ” فقد ثبت بكثير من البيانات أنها شهادات لا يوثق بها. قال الزحيل: في الفقه الإسلامي: وقد بينت سابقا أنه لا مانع من أكل الذبائح المستوردة من البلاد النصرانية حتى وإن لم يسم عليها بشرط كونها مذبوحة لا مخنوقة ولا ممزوعة الرقبة ولا تحل اللحوم المستوردة من البلاد الوثنية أو اللادينية كاليابان والهند والدول الشيوعية.

والله أعلم بالصواب 

كتبه
جبير بن حيدر
المتمرن بدار الإفتاء والإرشاد المركزية
بمركز الشيخ زكريا للبحوث الإسلامية داكا
5/4/1441هـــ
শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *