বিদায়ক্ষণের অশ্রু ভেজা আঁখি: বিদায়ী কাফেলা ১৪৩৭-৩৮হি. শিক্ষাবর্ষ

বিদায়ক্ষণের অশ্রু ভেজা আঁখি

স্রষ্টার সেরা সৃষ্টি মানবজাতি। পূর্বাপরের সব কিছুর সৃষ্টি মানবজাতিকে কেন্দ্র করে। কত শত আয়োজন এ মানব জাতিকে ঘিরে। ঋতু বৈচিত্র, উঁচু-নিচু প্রান্তর, সবুজ বনানী, সোনা ঝরা রোদ্দুর, মুঠো ভরা জোস্না, সর্বোপরি চিরন্তর পরিবর্তমান এ প্রকৃতি ও চতুর্পার্শ্বে গড়ে ওঠা পরিবেশের সে হলো মধ্যমণি। সর্বত্র রয়েছে তার সরব উপস্থিতি। জীবন তার চলমান। যেন এক সময়ের গুঞ্জনময়ী জনপদ যা আজ ভরা যৌবনা স্রোতস্বিনী, বয়ে যায় অনেক দূর, মিশে যেতে থাকে সমুদ্রের সাথে, অজানিত মায়াবদ্ধতায় ছুটে চলে অহর্নিশি। তদ্রূপ মানবজাতি চলমান তার পরিবেশ চলমান তার প্রতিবেশ।পুরো জীবন প্রবাহ। এক কথায় পরিবর্তনের আবর্তে আবর্তিত এ মানবজাতি।মহান আল্লাহ মানব কে তার যোগ্য প্রতিনিধিরূপে গড়ে তুলতে চান। প্রত্যেক যুগেই তিনি বাছাই করে নেন প্রতিনিধিত্বের মহান দায়িত্বের জন্যে কিছু বান্দাকে। যারা মনোনীত বান্দা। ইলমে নববীর পরশে যারা হয়ে ওঠে ওয়ারিসে নবী। শোকর আল্লাহর চলমান পৃথিবীতে তার নির্বাচনে আমরা একদল তরুণ এলমে নববির সৌভাগ্যের পরশে ধন্য। মনোনীত হওয়ার দুঃসাহসিক দাবি করবো না। বলবো অনুগ্রহসিক্ত। ইলমে নববীর কাননে মৌমাছিদের মত পার করেছে বহু স্মৃতি মুখর সময়। প্রস্ফুটিত ফুল থেকে মধু আহরণের মত পরিবেশে কাটিয়েছি সময়। সময় হয়েছে এখন নীড় ছেড়ে যাওয়ার। প্রকৃতিতে যেন শীতের আনাগোনা, পাতাঝরা মৌসুম। পরিচিত মুখ, অনুকূল পরিবেশ। প্রকৃতির নিয়ম মেনেই আঁধারের অমানিশা দূর করে ভোরের আগমনী বার্তা নিয়ে উদিত হয় নতুন সূর্য, অস্তমিত হয় দিবসের অন্তিম লগনে। দিনগুলো হারিয়ে যায় জীবন থেকে। দৃষ্টিতে ভাসমান ঘটনাগুলোকে করে দেয় স্মৃতির পাতা। কিন্তু চলার পথে এমন কিছু আনন্দ-বেদনার আবহ সৃষ্টি হয় যা অবিস্মৃত থাকে চিরদিন। এমনই অনেক আবেগঘন মুহূর্ত আমাদের কেটেছে এই মারকাযে শাহ আবরারুল হক এর চেতনা লালন কেন্দ্র, মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ এর প্রস্ফুটিত ইলমের কানন এই মারকায। সৌভাগ্যর ঘূর্ণি হওয়া জামায়াত করেছে আমাদের এখানে। জন্ম হয়েছিল একটি মায়াময় পরিবেশের, যেখানে নিবিড় ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে কাটছিল আমাদের স্মৃতিময় দিনগুলো। এমন আনন্দমুখর পরিবেশে হঠাৎ বিদায় নামক ঝড় এসে ওলট-পালট করে দিল সব কিছু। অভিধানের নগণ্য শব্দ আজ অতি বাস্তবতা। একসাথে সবার হৃদয়ে বেঁজে উঠল বিচ্ছেদের করুণ সানাই। স্বপ্নীল আনন্দের দিনগুলো এত দ্রুত ফুরিয়ে যাবে তা কখনো ভাবিনি।

 

প্রাণপ্রিয় হে মারকায!

তোমার সুরম্য ভবনে পার করেছি বহুক্ষণ। তোমার পথ বেয়ে এগিয়েছি অনেক দূর। তোমার কানন থেকে ইলমে নববীর অমৃত সুধা পান করে জীবন করেছি উজ্জল। আধারের ভুবনে হেরার জ্যোতি ছড়িয়ে দেয়ার সুতীব্র নেশায় এসে জড়ো হয়েছি তোমার ফুলের বাগানে। তুমি অকৃপণ স্নেহনিলয়ে বরণ করে নিয়েছিলে আমাদেরকে। গভীর মমতায় ভাসিয়েছো আমাদের। তুমিই ছিলে আমাদের পরিচয়। আমাদের সর্বত্র তুমি ছিলে নিত্যসঙ্গী। তোমার স্নেহের এ ভালোবাসা কখনো ভুলা যায়না। তোমাকে ভালোবাসি হে মারকায। তাকরিরে মিযানির মুহুর্মুহু ধনী। দরসে ইলমি সুঘ্রাণ। প্রভু দরবার পানে অশ্রুভেজা কান্নার রোল। দৈনন্দিন মামুলাতের মৌগুঞ্জন। আরো কত্তো কি…। কি করে ভুলা যায়।না কখনো ভুলতে পারবো না। বিচ্ছেদ বিরহে আকাশ-বাতাস আজ ভারী। সময়ের তাগিদে কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে স্বার্থপর এর মতো হয়তো বিদায় নিচ্ছি আজ। তবে নির্ভেজাল স্বার্থের টানে কখনো যদি ফিরে আসি কাছে টেনে নিও অক্লান্ত ভালোবাসায়।

 

হে শ্রদ্ধেয় পিতৃতুল্য আসাতিযায়ে কেরাম!

আমাদের চলার পথ ছিল অজানা। গতি ছিল ক্ষীণ। চলতে গিয়ে হোঁচট খেয়েছে বারংবার। আমাদের চলনে ছিলনা কোন প্রাণ- স্পন্দন। আঁধার ঘেরা এ পথের মাঝে দাঁড়িয়ে মহানবীর অনুপম আদর্শে পথচলার মানুসে আমরা এসেছিলাম আপনাদের কোমল আশ্রয়ে। পৃতমমতায় বুকে জড়িয়ে নিয়েছিলেন। সোহবতের পরশ একে দিয়েছিলেন প্রাণে। আপনাদের বদান্যতায় পেয়েছি জীবন চলার দিপ্ত পথে এগিয়ে চলার অসীম প্রেরণা ও সাহস। আমাদের জ্ঞানার্জনে ও জীবন গঠনে আপনাদের দিবারাত্রির অক্লান্ত পরিশ্রম এক বিরল দৃষ্টান্ত। স্বীকার করি পৃতম মমতার বিনিময়ে বাধ্য সন্তানের দায়িত্ব পালন করতে পারিনি একটুও। জানি আমাদের কৃত অন্যায়-অপরাধ অমার্জনীয়। দিয়েছি কেবল দুঃখ। হয়েছি সদা অবাধ্য। তবে আমরা তো আপনাদেরই সন্তান। তাই বুক ভরা আশা নিয়ে কামনা করি আমাদের ভুলগুলো ভুলে গিয়ে ক্ষমা করে দিন সকল অন্যায়। দু’আয় দু’আয় ভরে দিন অযোগ্যতার সকল স্তর। সত্যের পথে থাকি যেন অনড়, হ‌‍‌ই চির সফল।

 

প্রিয় অনুজ-অগ্রজ ছাত্রকাফেলা!

তোমরা ছেলে আমাদের অবিচ্ছেদ্য ভালোবাসা। তোমাদের সহোদর সুলভ আচরণ আমাদের হৃদয়ে ছড়িয়েছে অপার মুগ্ধতা। আজ বিদায়ের করুন মুহূর্তে তোমাদের সাথে একাত্ম হয়ে কাটানো দিনগুলো স্মৃতির দর্পণে ভেসে উঠছে। বিদায় লগ্নে ‘বিদায়’ শব্দটি উচ্চারণ করতে গিয়ে গলা ভারী হয়ে আসছে। কী প্রতিদান দেব তোমাদের ভালোবাসার? আমাদের থেকে যে সদাচরণ তোমাদের কাম্য ছিল তাও করতে পারিনি। প্রিয় অনুজ-অগ্রজ ছাত্রকাফেলা! তোমরা ছেলে আমাদের অবিচ্ছেদ্য ভালোবাসা। তোমাদের সহোদর সুলভ আচরণ আমাদের হৃদয়ে ছড়িয়েছে অপার মুগ্ধতা। আজ বিদায়ের করুন মুহূর্তে তোমাদের সাথে একাত্ম হয়ে কাটানো দিনগুলো স্মৃতির দর্পণে ভেসে উঠছে। বিদায় লগ্নে ‘বিদায়’ শব্দটি উচ্চারণ করতে গিয়ে গলা ভারী হয়ে আসছে। কী প্রতিদান দেব তোমাদের ভালোবাসার? আমাদের থেকে যে সদাচরণ তোমাদের কাম্য ছিল তাও করতে পারিনি।আজ বিদায়ের মুহূর্তে তোমাদের প্রতি আমাদের আকুতি- সকল অভিমান ঝেড়ে ফেলে আমাদের জন্য মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করো, আমরা যেন কক্ষচ্যুত না হয়ে পড়ি। বিদায় দিতে মন চায় না! তবু নিতে হয়। নিয়তির এ লিলা খেলা খন্ডন করার নয়। জাতির স্বপ্ন হে ছোট ভাইয়েরা! বিদায় কালে তোমাদের প্রতি সর্বশেষ মিনতি, জাতির স্বপ্নপূরণে তোমরা আত্মত্যাগের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন কর। দোয়া করি, তোমাদের আগামী হোক সুন্দর ও কল্যাণময়।

শেয়ার করুন