প্রশিক্ষণ প্রকল্প

প্রশিক্ষণ প্রকল্প:
ক. “যতই পড়বে ততই গড়বে” এই স্লোগান কে সামনে রেখে মারকাযের সিলেবাস ভূক্ত শিক্ষক্রমের পাশাপাশি বহুমুখী জ্ঞানার্জনের এবং দেশ ও জাতির সমকালীন অবস্থা ও আর্ন্তজাতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবগতি লাভের জন্য ফিক্হ , হাদীস, তাফসীরসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্যবহুল বই, পত্র-পত্রিকা সমৃদ্ধ একটি উচ্চমানের দারূল মুতালাআ (পাঠাগার)-এর ব্যবস্থা রয়েছে। ক্লাসিক্যাল লেখা-পড়ার পাশাপাশি অবসরে ছাত্ররা স্বস্ব রুচি মোতাবেক অধ্যয়ণ করে জ্ঞানার্জন করতে পারে।
খ. বক্তৃতা প্রশিক্ষণ। কুরআন-হাদীসের শিক্ষা আর দশটা শিক্ষার মতো শুধু শিক্ষাতেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এই শিক্ষা অর্জনের পর এর ধারকের উপর এক বিশাল জিম্মাদারী বর্তায়। আর তা হলো সর্ব সাধারণের মাঝে তা পৌছে দেয়া। তাই দীনী দাওয়াতের ব্যাপক প্রচার-প্রসারের যোগ্যতা অর্জনের জন্য ছাত্রদের বাকশক্তি প্রস্পোটিত করার লক্ষ্যে মারকাযের হলরুমে সাপ্তাহিক বিষয় ভিত্তিক বক্তৃতা প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থ রয়েছে।


নামায ও কিরাত প্রশিক্ষণ
নামায মুসলমানদের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত। আর নামাযের মৌলিক শর্ত হলো কিরাতের পরিশুদ্ধি। নামায সুন্নাত তরীকায় আর কেরাত তাজবীদসহ আদায় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অত্যান্ত পরিতাপের বিষয় সাধারণ জনগণের পাশাপাশি উলামাদের নিকটতো আজ বিষয়গুলো অবহেলিত। ফলে নামাজে আগেরমতো রুহানিয়্যাত পাওয়া যায়না। তাই ছাত্ররা নিজেদের নাামাজ ও কেরাত ঠিক করে যেন সাধারণ জনগণের সাথে ও তা ছড়িয়ে দিতে পারে এজন্য আমলী মাশকের ব্যবস্থাপনা রয়েছে। যাতে নিজেদের নামাজও সুন্নাত তরীকায় হয় এবং সাধারণ জনগণের ও কুরআনের প্রচলিত ভুল-ভ্রান্তিগুলো শুধরে সহীহ ও সুন্দর তিলাওয়াতের যোগ্যতা অর্জন হয় পাশাপাশি আযান-ইকামাত প্রভৃতির প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

বিশেষ কোর্স: বাতিল অপ্রতিরোধ্য ভাবে এগিয়ে চলছে, অথচ আমরা ঘুমিয়ে। একসময় অন্ধেরমতো যে সাধারণ মানুষ আমাদের কথা মানতো আজ তারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। চুটে যাচ্ছে বাতিলের দিকে এর একমাত্র কারণ আমাদের দুর্বলতা। কেননা আমরা যেমনি তাদের নিকট পৌছাইনি সঠিক আকীদা। আর নিজেদেরকেও গড়ে তুলিনি বাতিল প্রতিরোধের যোগ্য করে। তাই ইসলামী আকীদাগুলো জানা আর ভ্রান্তমতবাদীদের খ-ন প্রশিক্ষণ সময়ের দাবী। এ দাবী পূরণের লক্ষ্যে বৎসরের বিভিন্ন সময়ে বিশেষ করে রমযানে একটি প্রশিক্ষণ কোর্সের ব্যবস্থা করা হয়।

ইংরেজী প্রশিক্ষণ কোর্স: সময়ের চাহিদা ও দীনের দাওয়াতের ব্যাপকতার দিক চিন্তা করে আন্তর্জতিক ভাষার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করতঃ উচ্চতর গবেষণা বিভাগে অধ্যয়ণরত শিক্ষার্থীদেরকে একজন অভিজ্ঞ শিক্ষকের মাধ্যমে বিশেষ কারিকুলামে ইংরেজী ভাষার উপর দক্ষ করে তোলা হয়।

ফিকহী মজলিস: ঢালাও ভাবে পড়ে যাওয়া আর সন্নিবেশিতাকারে অধ্যয়ণের মাঝে রয়েছে বিশেষ ফারাক। অনুরূপ কিতাব বুঝা সহজ তবে তা যুগীয় মাসআলার সাথে খাপ খাইয়ে নেয়া কঠিন। এ দুটি দুর্বলতাকে দুরীকরণের লক্ষ্যে মারকাযের মুহতারাম মুদীর শাইখুল ইসলাম আল্লামা তাকী উসমানী দা.বা.-এর অন্যতম শীর্ষ মুফতী মিযানুর রহমান সাঈদ দা.বা. সময়ে সময়ে বিভিন্ন আধুনিক ও জরুরী মাসআলা মুহাযারায়ে আম্মাহ দিয়ে থাকেন। যার মাধ্যমে ছাত্ররা দুটি দিকনির্দেশনা লাভ করে। ১. কিভাবে একটি কঠিন বিষয়কে সন্নিবেশিতাকারে পেশ করা যায়। ২. কিতাবের মাসআলাকে কিভাবে আধুনিক সমস্যার সাথে মিলানো যায়।