জি. পি. এফ. ফান্ডের টাকার বিধান

ফতোয়া নং: ১০/১৯৫৮

বরাবর, 
কেন্দ্রীয় দারুল ইফতা বাংলাদেশ
তত্ত্বাবধানে- শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা
কুড়িল, কুড়াতলী, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯

বিষয়: জি পি এফ ফান্ডের টাকার বিধান

আমি একটি সরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি, সরকার প্রতি মাসে আমার বেতন থেকে বাধ্যতামূলক ২৫০০ টাকা কর্তন করে জি পি এফ ফান্ডে রাখে। এক বছরে ৩০ হাজার টাকা। আমার চাকরির মেয়াদ সর্বমোট ৩৪ বছর। ৩৪ বছরে আমার মোট টাকা জমবে ১০ লাখ ২০ হাজার। প্রতি বছরে ১৩% হারে চক্রবৃদ্ধি সুদ দিচ্ছে। আমি যে লভ্যাংশ পাচ্ছি তা দিয়ে কি করণীয়? এবং আমার টাকা যে, এত বছর সরকারের কাছে থাকছে তার জন্য আমি কি প্রাপ্য?

নিবেদক
মো: সানা উল্লাহ
০১৯৫০৯৮১৬৯৮

الجواب باسم ملھم الصدق والصواب

শরয়ী দৃষ্টিতে সুদ বলা হয় ঋণের চুক্তির মাধ্যমে শর্তারোপ করে অতিরিক্তি গ্রহণ করা। আর বর্তমানে প্রচলিত বাধ্যতামূলক প্রভিডেন্ট ফান্ডে চাকুরী জীবির বেতনের নির্দিষ্ট অংশ কর্তন করে রাখার যে প্রথা চালু রয়েছে তাতে চাকুরী জীবির মালিকানাই সাব্যস্ত হয় না। ফলে এখানে উভয় পক্ষের মাঝে মূলত কোন লেনদেনই হয় না বিধায় পরবর্তীতে উক্ত কর্তনকৃত টাকা লভ্যাংশসহ ফেরত দেয়া সুদের আওতাভুক্ত না হওয়ায় চাকুরী জীবির জন্য গ্রহণ করা বৈধ।
সুতরাং প্রশ্নোক্ত সুরতে সরকার যে, জি পি এফ ফান্ডে বাধ্যতামূলক মূল বেতন থেকে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা কর্তন করে তার সাথে প্রতি বছর চক্রবৃদ্ধিহারে ১৩% লাভ দেয়, তা শরয়ী দৃষ্টিকোণে সুদের আওতাভুক্ত নয়; বরং অনুদানের মধ্যে গণ্য। ফলে তা গ্রহণ করা বৈধ। অনুরূপভাবে চাকরীর মেয়াদ শেষে নির্ধারিত বেতন থেকে কর্তনকৃত টাকা তো মুল বেতন হওয়ায় তাও বৈধ।

الادلۃ الشرعیہ

الھدایۃ: 5/175 (البشری)

لأن الربا هو الفضل المستحق لأحد المتعاقدين في المعاوضة الخالي عن عوض شرط فيه،

 البحر الرائق: 7/551 (زکریا)

“قوله بل بالتعجيل أو بشرطه أو بالاستيفاء أو بالتمكن” يعني لا يملك الأجرة إلا بواحد من هذه الأربعة والمراد أنه لا يستحقها المؤجر إلا بذلك كما أشار إليه القدوري في مختصره لأنها لو كانت دينا لا يقال أنه ملكه المؤجر قبل قبضه وإذا استحقها المؤجر قبل قبضها فله المطالبة بها وحبس المستأجر عليها وحبس العين عنه وله حق الفسخ إن لم يعجل له المستأجر كذا في المحيط لكن ليس له بيعها قبل قبضها.

جواھر الفقہ: 3/257 ( دارالعلوم)

الجواب:  جبری پراویڈنٹ فنڈ پر جو سود کے نام پر رقم ملتی ہے وہ شرعا سود نہیں بلکہ اجرت “تنخواہ” ہی کا ایک حصہ ہے، اسکا لینا  اور اپنے استعمال میں لانا جائز ہے، البتہ پراویڈنٹ فند میں  رقم اپنے اختیار سے  کٹوائی جائے تو اس میں تشبہ  بالربا بھی ہے، اور ذریعہ سود بنالینے کا خطرہ بھی ہے، اس لئے   اس سے ا جتناب کیا جائے۔

والله اعلم بالصواب

كتبه
زبير نواخالي
المتمرن بدار الفتاء والارشاد المركزية داكا
بمركز الشيخ زكريا للبحوث الاسلامية
14/3/1442ھ
শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *