জমি বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে লোন গ্রহণ প্রসঙ্গে

ফতোয়া নং: ১৬১৫

বরাবর,
প্রধান মুফতি সাহেব দা.বা.
কেন্দ্রীয় দারুল ইফতা বাংলাদেশ
তত্ত্বাবধানে- শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা
কুড়াতলী, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯

বিষয়: ব্যাংক থেকে লোন গ্রহণ প্রসঙ্গে

জনাব, আমার পিতা একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসাকে বৃদ্ধি করার জন্য আমাদের নগদ টাকার দরকার। কিন্তু এই পরিমাণ টাকা ধার হিসেবে পাচ্ছি না।
সুতরাং আমি কি এখন সোনালী ব্যাংকে জমি বন্ধক রেখে লোন নিতে পারবো? অথবা অন্য কোন ধরনের ব্যাংক থেকে লোন নিতে পারবো? অথবা এই সমস্যা থেকে উত্তরনের শরীয়ত সম্মত কোনো পন্থা থাকলে জানিয়ে উপকৃত করবেন।

নিবেদক
মো: আরিফ হোসেন
৫৯/৪ কুড়াতলী

الجواب باسم ملهم الصدق والصواب

ইসলামী শরীয়াহ মতে সূদের উপর ঋণ দেয়া ও নেয়া উভয়টি হারাম। তবে যদি স্বাভাবিক ঋণ না পেয়ে সূদি ঋণ ছাড়া দিনাতিপাত অসম্ভব হয়ে পড়ে তখন এমন বাধ্যতার মুহুর্তে অন্তরে ঘৃণা রেখে সূদি ঋণ নেয়ার সুযোগ আছে। তবে প্রয়োজন ব্যতিরেকে শুধু মাত্র ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সূদি ঋণ গ্রহণ করার কোনো প্রকার সুযোগ নেই। সর্বাবস্থায় সূদবিহীন ঋণ গ্রহণ পদ্ধতি গ্রহণ করাই শ্রেয়।
সুতরাং প্রশ্নের বিবরণ মতে শুধুমাত্র ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সোনালী ব্যাংকে জমি বন্ধক রেখে সূদি ঋণ নেয়া কোনোক্রমেই বৈধ হবে না। তবে যে সকল ইসলামী ব্যাংক শরীয়াহ মোতাবেক মুদারাবা, মুশারাকার ভিত্তিতে অর্থ বিনিয়োগ করে সেখান থেকে অর্থগ্রহণ বৈধ হবে।

الأدلة الشرعية

سورة البقرة: الاية: 283

            وَإِنْ كُنْتُمْ عَلَى سَفَرٍ وَلَمْ تَجِدُوا كَاتِبًا فَرِهَانٌ مَقْبُوضَةٌ

بدائع الصنائع: 7/396 (دار الحديث)

وَأَمَّا الذي يَرْجِعُ إلَى نَفْسِ الْقَرْضِ فَهُوَ أَنْ لَا يَكُونَ فيه جَرُّ مَنْفَعَةٍ فَإِنْ كان لم يَجُزْ نَحْوُ ما إذَا أَقْرَضَهُ دَرَاهِمَ غَلَّةٍ على أَنْ يَرُدَّ عليه صِحَاحًا أو أَقْرَضَهُ وَشَرَطَ شَرْطًا له فيه مَنْفَعَةٌ لِمَا رُوِيَ عن رسول اللَّهِ صلى اللَّهُ عليه وسلم أَنَّهُ نهى عن قَرْضٍ جَرَّ نَفْعًا وَلِأَنَّ الزِّيَادَةَ الْمَشْرُوطَةَ تُشْبِهُ الرِّبَا لِأَنَّهَا فَضْلٌ لَا يُقَابِلُهُ عِوَضٌ وَالتَّحَرُّزُ عن حَقِيقَةِ الرِّبَا وَعَنْ شُبْهَةِ الرِّبَا وَاجِبٌ  هذا إذَا كانت الزِّيَادَةُ مَشْرُوطَةً في الْقَرْضِ فَأَمَّا إذَا كانت غير مَشْرُوطَةٍ فيه وَلَكِنَّ الْمُسْتَقْرِضَ أَعْطَاهُ أَجْوَدَهُمَا فَلَا بَأْسَ بِذَلِكَ لِأَنَّ الرِّبَا اسْمٌ لِزِيَادَةٍ مَشْرُوطَةٍ في الْعَقْدِ ولم تُوجَدْ بَلْ هذا من بَابِ حُسْنِ الْقَضَاءِ

البحر الرائق: 6/126 (زكريا)

رَجُلٌ له على آخَرَ عَشَرَةُ دَرَاهِمَ فَأَرَادَ أَنْ يُؤَجِّلَهَا إلَى سَنَةٍ وَيَأْخُذَ منه ثَلَاثَةَ عَشَرَ فَالْحِيلَةُ أَنْ يَشْتَرِيَ منه بِتِلْكَ الْعَشَرَةِ مَتَاعًا وَيَقْبِضَ الْمَتَاعَ منه وَقِيمَةُ الْمَتَاعِ عَشَرَةٌ ثُمَّ يَبِيعَ الْمَتَاعَ منه بِثَلَاثَةَ عَشَرَ إلَى سَنَةٍ.

فتاوى المعاملا المالية: 14/169 (دار السلام)

الرأى الشرعى: انه  لا يجوز الاقتراض  بفائدة سواء من البنوك او غيرها لانها ربا صريح ولقوله عليه السلام ” لعن الله الربا وموكله وكاتبه وشاهديه” لكن بالامكان مشاركة المعمولين فى العملية التجارية بجزء من الربح.

وكذا فى الموافقات: 2/10 (دار الحديث) جديد فقہى مسائل: 1/416 (نعيميہ) جديد فقہى مباحث:2/236(ادارةالقران)مال حرام: 396 (نورمحمد)

                                                   والله أعلم بالصواب

كتبه
ابو يوسف نرائن غنجى
المتمرن بدار الإفتاء والإرشاد المركزية
بمركز الشيخ زكريا للبحوث الإسلامية،
‏29‏/1‏/1440هـ
শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *