কওমি মাদরাসার মানোন্নয়ন জরুরি তবে আদর্শ বিকিয়ে নয়: আল্লামা নুরুল ইসলাম আদীব ও শিব্বির আহমদ রশিদ

কওমি মাদরাসা। দারুল উলুম দেওবন্দ এর নীতি-আদর্শ মোতাবেক দীর্ঘ দেড় শত বছর ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আপন স্বকীয়তা বজায় রেখে চলছে এই প্রতিষ্ঠানগুলো। সম্প্রতি আলোচনায় আসা কিছু পদক্ষেপ নিয়ে কথা হয় দেশের দুই শীর্ষ আলেমের সঙ্গে। কথা বলেন আওয়ার ইসলামের নিউজরুম এডিটর মোস্তফা ওয়াদুদ।

স্বকীয়তা বজায় রেখে যেকোন ধরণের উন্নয়নকে ওয়েলকাম: আল্লামা শিব্বির আহমদ রশীদ
মুহতামিম, জামিয়া ইমদাদিয়া কিশোরগঞ্জ।

তিনি বলেন, আমাদের মাদরাসাগুলো দেওবন্দের নীতি আদর্শ মেনে চলছে। দেওবন্দের আদর্শকে ধারণ করে বিশ্বব্যাপী নিজেদের আদর্শ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। প্রত্যেক দেশের ওলামায়ে কেরাম দেওবন্দের আদর্শকে মূলনীতি বানিয়ে সেই দেশের সরকারের সাথে মিলে নিজেদের অবকাঠামো ঠিক রেখে চলছে।

আমাদের দেশেও যদি আমাদের নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখে যেকোন ধরণের উন্নয়ন কেউ করতে চায়, তবে ওয়েলকাম। কিন্তু স্বকীয়তা বিনষ্ট করে আমাদের আদর্শ বিকিয়ে দিলে আমরা তা কখনোই সাপোর্ট করতে পারি না।

কওমি মাদ্রাসাগুলো তিনটি উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে: আল্লামা নুরুল ইসলাম আদীব
মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস, দারুল উলুম আল হুসাইনিয়া ওলামাবাজার, সোনাগাজী, ফেনী।

দেশের শার্ষ এ আলেম বলেন, কওমি মাদ্রাসাগুলো তিনটি উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রথম: তাওহীদে খালেছ। অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালার এককত্ব বর্ণনা ও আল্লাহ তা’আলার সাথে গভীর সম্পর্ক।
দ্বিতীয়: শরিয়তে খেলাফের সাথে মুজাহাদা। অর্থাৎ শরীয়তের বিরোদ্ধাচারণ করে যত রকমের কার্যক্রম আছে সেগুলো থেকে দূরে থাকার প্রচেষ্টা চালানো।
তৃতীয়: মুজাহাদা মা’আ ফেরাকে বাতেলা বা বাতিল সম্প্রদায়গুলোর সাথে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দেওয়া।

এই তিনটি আদর্শকে বাস্তবায়ন করে যে কোন ধরণের উন্নয়ন করতে চাইলে আমরা উন্নয়নের পক্ষপাতিত্ব করবো। উন্নয়নকে সাদরে আমন্ত্রণ জানাবো। কিন্তু যদি আমাদের নিজস্ব স্বকীয়তা দূর করার চেষ্টা করে, তাহলে আমাদের দীন নষ্ট হয়ে যাবে। ঈমান-ইসলাম নষ্ট হয়ে যাবে।

সৌজন্যে আওয়ার ইসলাম

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *